বিবাহ বিড়ম্বনা

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

বিবাহ বিড়ম্বনা

মুহা. তাজুল ইসলাম ৩:০৯ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৯

print
বিবাহ বিড়ম্বনা

আজ মঙ্গলবার। বিশেষ একটি দিন। বাংলাওয়াশ প্রকাশিত হবে বলে নয়, আমার ৪২তম জন্মদিন বলে। সারা দিন আমার অনেক ব্যস্ততা। সেটা অবশ্য জন্মদিন উপলক্ষে নয়, বিয়ের জন্য। বিয়েটা আবার আমার ভাগ্নে-ভাতিজা বা ছোট ভাইয়ের নয়, আমার নিজেরই। বয়সটা বিয়ের জন্য সামান্য একটু বেশি হলেও খুব একটা বেশি কিন্তু না! পুরুষের বিয়ের আবার বয়স আছে নাকি? ভাববেন না, আমার বউ চলে গেছে কিংবা মরে গেছে। এটা কিন্তু আমার দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়েও না, প্রথম বিয়ে।

আজ থেকে চব্বিশ বছর আগে থেকে বিয়ের চেষ্টা করেই চলেছি কিন্তু সফল হতে পারছি না। কুলসুম, ময়না, টিয়া, জেলি কিংবা বেদানা, কত মেয়ের সঙ্গে প্রেম করলাম আর ধরা পড়লাম! প্রায় প্রতি সপ্তাহেই গ্রামে আমাকে নিয়ে সালিশ চলে। এ জন্য কান ধরে উঠবস করা, জুতা আর বেতের বাড়ি খাওয়াকে সাপ্তাহিক ব্যায়াম আর আশীর্বাদ হিসেবেই মনে করতাম।

অবশেষে আমাকে থামাতে, গ্রামের সবাই মিলে শিউলির সঙ্গে বিয়ে ঠিক করল। কিন্তু বিয়ের দিন বাল্যবিয়ে হিসেবে সমাজকর্মীরা বিয়েটা ভেঙে দিল। এরপর কিন্তু আমি থেমে যাইনি, হাজারের ওপর মেয়ে দেখেছি কিন্তু সবকিছু মিলে গেলেও শেষে এসে ঝামেলা পাকায়। এই যেমন ফরিদা, বুবলি, ফাতেমারা ভালো মেয়ে হলেও কালো হওয়ার কারণে বাদ দিলাম। আবার লাকি, ফারিয়া, হাফসারা অতিরিক্ত ফর্সা যেটা আমার সঙ্গে একদমই যায় না। এদিকে অনিকা হলো বেশি লম্বা উল্টোদিকে ইভা অনেক খাটো।

নুসরাত সবদিকে ঠিক ছিল কিন্তু উচ্চতায় আবার আমার সমানে সমান। আমিনা, রিয়ার সব যোগ্যতা থাকলেও তারা বেশি মোটা আবার ফাতিমা, নুসাইবা মাত্রাতিরিক্ত চিকন। ফারহানা, তানিয়া, সানজিদা উচ্চশিক্ষিত আর ধনী হলেও ডিভোর্সি। সুমাইয়া, তারিন, আম্বিয়া কিংবা আয়েশারা দেখতে সুন্দরী হলেও তাদের লেখাপড়া আর টাকাপয়সা কম।

সবাইকে বাদ দিয়ে অবশেষে পছন্দ হলো সিনেমার এক নায়িকাকে কিন্তু তার নাকি মাত্র ত্রিশ বছরেই তিন-চারটা বিয়ে-ডিভোর্স হয়ে গেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছি যে বিয়ে আজ করবই, মেয়ে যেমনই হোক না কেন! তাকে তাই না দেখেই, কাজিও সঙ্গে নিয়ে এসেছি কিন্তু আবার ঝামেলা পাকিয়ে গেছে।

এবারের ঝামেলা মেয়ে না, মেয়ের মা। তিনি নাকি আমাকে দেখে স্ট্রোক করে আইসিইউতে ভর্তি হয়েছেন। কারণ অনেক বছর আগে নাকি তাকেও দেখতে এসেছিলাম!