‘বাজারের নিজস্ব উত্তাপ আছে’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

‘বাজারের নিজস্ব উত্তাপ আছে’

তাজুল ইসলাম ২:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

print
‘বাজারের নিজস্ব উত্তাপ আছে’

বাংলাওয়াশ-এর মুখোমুখি হয়েছেন খ্যাতনামা সুপার শপ বাজার-হাটের ম্যানেজার সতেজ হোসেন।
গরমাগরম কথায় তিনি সুপার শপের বাসি পণ্যসামগ্রীকে ফ্রেশ করতে না পারলেও ‘ফ্লেভার’ ছড়ানোর চেষ্টায় খামতি রাখেননি...

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ সুপার শপেও এত গরম অনুভূত হচ্ছে কেন?
বাজারের নিজস্ব একটা উত্তাপ আছে না!
তাই বলে এতটা? গায়ে যেন ফোসকা পড়ে যাচ্ছে গরমে!
প্রাকৃতিক গরমের সঙ্গে যুক্ত হয় মূল্যবৃদ্ধির গরম। গরম তো বাড়বেই!
ওই কোণায় রাখা খেজুরগুলো পচা মনে হচ্ছে...।
পচা নয়, একটু শুঁটকি টাইপের!
মাছে এত মাছি পড়ছে, গন্ধও বের হচ্ছে! এমন অবস্থা কেন?
মাছে ফরমালিন নেই বলেই মাছি পড়েছে। আর এক বছর ফ্রিজে রেখেছি, একটু গন্ধ তো হবেই। এক বছর হলেও মাছ কিন্তু একদম তাজা।
আপনারা নাকি মরা মুরগির মাংসও বিক্রি করেন?
কেউ জীবিত মুরগি খায় নাকি! মানুষ কষ্ট করে জবাই করে মারে, এগুলো জবাইয়ের আগেই মরেছে। ঝামেলাবিহীন, বিষয়ও তো এক!
কসমেটিকসগুলোর এ কী হাল!
এগুলো জিনজিরায় তৈরি অরিজিনাল বিদেশি প্রোডাক্ট!
সবজি ও ফলমূলগুলো?
এগুলো এক সপ্তাহেও পচবে না। বিফলে মূল্য ফেরত। রিকশা ভাড়াসহ।
কীভাবে সম্ভব? ফরমালিন মিশিয়েছেন?
মোটেই না। এগুলোতে বিদেশি স্প্রে দেওয়া হয়েছে।
রমজানের প্রস্তুতি কেমন?
ব্যাপক। এ বছরে সব জিনিসের দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেক থাকবে।
কীভাবে সম্ভব! আপনারা কী অনন্ত জলিল?
আগের বছর ২০ টাকার জিনিস বিক্রি করতাম ১০০ টাকায়। এবার সেটা করছি মাত্র ৫০ টাকায়!
তাও তো অনেক! পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় রমজানে দ্রব্যমূল্য সব কমে আসে, আপনারা এত লাভ করছেন যে!
তারা ব্যবসা বোঝে না। এ জন্যই তো আমরা উন্নত রাষ্ট্র হয়ে যাচ্ছি, অন্যরা পিছিয়ে যাচ্ছে!
গরিব মানুষ তো সমস্যায় পড়বে!
বাংলাদেশে গরিব আছে নাকি! কিছুদিনের মধ্যে লন্ডন-আমেরিকা থেকে বেকাররা আমাদের দেশে চাকরি খুঁজতে আসবে!
এ চরম গরমে সাধারণ মানুষের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?
বরফ মিশ্রিত লেবুর শরবত খেয়ে বাজারে আসুন। তাতে গরম কম লাগবে!

কাল্পনিক সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন
মুহা. তাজুল ইসলাম