সৃজনশীল লেখাজোখা

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

সৃজনশীল লেখাজোখা

মো. গোলাম মোর্তুজা ২:২৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৯, ২০১৯

print
সৃজনশীল লেখাজোখা

ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ। মনে নেই ছন্দ। পরীক্ষাও আসন্ন। শোভা পরীক্ষাকে কুচ পরওয়া নেহি। বাবা করম আলি রাতে কারও বাড়ি হামলা না করে, দিনের বেলায় কামলা খাটে, খাবারও খায় গামলা ধরে। শোভার শোভা বাড়াতে গ্রামের ‘ঠাণ্ডা ব্যাংক’ থেকে তিনি কিস্তি নিয়ে, মেয়ের ফিরিস্তি গেয়ে ইয়া বড় এক মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছেন ছ’মাস আগে।

পরীক্ষা শনিবার হলেও আজ তো শুক্রবার। করম আলি রাতের এক প্রহরে, গায়ে চাদর জড়িয়ে মেয়েকে বললেন, ‘কী করো মা? পড়ছোনি?’

শোভা ব্যস্ত পড়াতে, মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ‘হ্যাঁ বাবা বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করে পড়ছি।’

মেয়ের কথায় করম আলি কেবলি শরম পেল। ‘চ্যাট’-এর মধ্যে আছে এক ফ্যাক্ট।

লজ্জা বেগম এক পা, দু’পা আর কানামাছি করে মেয়ের ঘরে ঢুকলেন। মেয়ে ফোন টেপাটেপি ছাড়ল। পাশেই জ্ঞানের আড্ডাখানা বইগুলোর বসবাস। বইটির গায়ে বেশ কিছুদিন থেকে আঁচড় পড়েনি।

কাল বাংলা পরীক্ষা। লজ্জা বেগম তার স্বরে বললেন, ‘এহনো ঐ শয়তানডার প্যাছনে পইরাই আহো? নিষ্যাদ করলাম হ্যায়ডা দ্যোওনের দরহার নাই...।’ মায়ের কথায় তেজ আছে, কথার ভেদ-ভেদাঙ্কও আছে। শোভা মুখ ফসকে বলে দেয়, ‘এত কথা ক্যান! রেজাল্টে দেখে নিও।’

পরীক্ষা শুরু হলো শনিবারে। নকল নেই। টকল নেই। তবু প্রশাসন টহল। সুনিবিড় শান্ত মহল। শোভার ডানে-বামে থাকা গুণবন্ত অসীম সাহায্যের সাহসিকতায় বহুনির্বাচনী সব কটাই হয়ে গেল ভরাট। এতে শোভার ললাট সুখেরই মলাট। পাস সে করবেই। নিজে নিজে ভেবেচিন্তে করলে হয়তো ফেল কেউ ঠেকাতে পারত না। সে যা করেছে সব অন্যের। অন্যজন পাস করলে সেও পাস করবে এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের কোনোই কমতি নেই, আছে তা বাড়তি।

এবার সৃজনশীলের পালা, শুরু হলো খেলা। শুধু দেখে দেখে লেখাজোখা। সৃজনশীল আছে বলেই গরিব-দুঃখী, কম মেধাবীদের পাস করার রাস্তা সহজ হয়েছে। শোভার এ ধারণা মূলক বটে। সে ‘ক’ ও ‘খ’ প্রশ্নের উত্তর পরে দেবে। তাই ‘গ’ প্রয়োগ, ‘ঘ’ উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলল। বিভিন্ন উদ্দীপকে একটু-আধটু কথার লেজুড় লাগাতে লাগাতে এগিয়ে গেল শোভা। অতঃপর প্রশ্নগুলোর একটা কূলকিনারা হলো। এতে প্রশ্ন বাঁচল, শোভা বাঁচল, শোভার মা-বাবাও হাসলো।