'কুমড়া বড়ি'র গ্রাম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

'কুমড়া বড়ি'র গ্রাম

নওগাঁ প্রতিনিধি ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৮

print
'কুমড়া বড়ি'র গ্রাম

গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে চাটাইয়ের উপর শুকানো হচ্ছে মাসকালাইয়ের সুস্বাদু কুমড়া বড়ি। পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে এই বড়ি তৈরি করতে দেখা যাবে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি মানুষই এই বড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এটি তাদের পূর্ব পুরুষের ব্যবসা। সবুজে ঘেরা গ্রামটি হচ্ছে খট্টেশ্বর। যে গ্রামটি কুমড়া বড়ির গ্রাম হিসেবে বেশি পরিচিত। গ্রামে তৈরি কুমড়া বড়ির বিশেষত হচ্ছে এখানে তৈরি করা কুমড়া বড়ির স্বাদ অন্যান্য এলাকায় তৈরি করা বড়ির চেয়ে আলাদা ও ভিন্নধর্মী। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে এই গ্রামের বড়ি পাইকারি দরে কিনে নিয়ে যায়।

বর্তমানে ওই গ্রামের কুমড়া বড়ির কারিগররা সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীত মৌসুমে বড়ির চাহিদা বেশি থাকায় এখন থেকেই বড়ি তৈরির পল্লীতে বড়ি তৈরি নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। অর্ধেক রাত থেকে শুরু হয় এই বড়ি তৈরির কাজ। নিজ জেলার প্রয়োজন মিটিয়ে চালান হচ্ছে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে। একমাত্র এই গ্রামেই বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা হয় কুমড়া বড়ি।

উপজেলার নিজস্ব একটি ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার হলো এই মাসকালাইয়ের কুমড়া বড়ি। এটি শীত মৌসুমের একটি বিশেষ খাবার। শীতের ৬ মাসই মূলত এই বড়িটি তৈরি করা হয়ে থাকে। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। রয়েছে অধিক মানের পুষ্টি। বড়ি তৈরির সব উপকরণই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার পণ্য। তাই এই বড়িতে ভেজাল বলে কিছুই নেই। শীত মৌসুমে যে কোনো তরকারিতে এই কুমড়া বড়ি যোগ করে আলাদা একটি স্বাদ। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র রাণীনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়নের হাতেগোনা কয়েকটি গ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ি তৈরি হয়ে আসছে। এই গ্রামের ২৫-৩০টি পরিবারের মানুষ পৈত্রিকভাবেই তৈরি করে আসছে এই কুমড়া বড়ি।

কুমড়া বড়ি তৈরির কারিগররাই আজও ধরে রেখেছে ঐতিহ্যপূর্ণ এই কুমড়া বড়ির শিল্পটি। তবে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে গেছে বলে জানান কারিগররা।

ওই গ্রামের কারিগর আবুল হোসেন, রহিম শেখসহ আরো অনেকেই বলেন, বড়ি মূলত মাসকালাই, চাল কুমড়া, জিরা, কালোজিরা, মোহরী দিয়ে তৈরি করা হয়।

প্রতি কেজি বড়ি ৩০০-৩৫০ টাকা (বড় আকারের) এবং ১৫০-২০০ টাকা (ছোট আকারের) করে খুচরা-পাইকারি বিক্রয় করা হয়। নিজ এলাকার প্রয়োজন মিটিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বড়িগুলো সরবরাহ করা হয়।

খট্টেশ্বর গ্রামের অনেকেই জানান, সারা দেশেই এই গ্রামের কুমড়া বড়ির সুনাম রয়েছে। অনেক দূর-দূরান্তের মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা এসে এই গ্রামের কুমড়া বড়ি নিয়ে যায়। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত নিম্ন আয়ের মানুষরা সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পায় না। সরকার ইচ্ছা করলে এই সুস্বাদু বড়ি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। এতে করে এই শিল্পটি আরো প্রসারিত হতো।

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, উপজেলার একমাত্র এই গ্রামটিতেই বাণিজ্যিকভাবে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই সুস্বাদু মাসকালাইয়ের কুমড়া বড়ি তৈরি হয়ে থাকে। তবে সরকারিভাবে যদি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে এই শিল্পটি আরো অধিক প্রসারিত হতো।