বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে পুষ্টি-বাড়তি আয়

ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২ | ১১ মাঘ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে পুষ্টি-বাড়তি আয়

ইকবাল কবীর রনজু, চাটমোহর প্রতিনিধি
🕐 ৭:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২১

বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে পুষ্টি-বাড়তি আয়

বাড়ির আঙিনা ও বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জায়গায় সবজি চাষ করে মেটানো যায় পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা। পাশাপাশি বাড়ে আয়ও। এজন্য প্রয়োজন ইচ্ছা ও উদ্যোগ। চাটমোহরের অনেক গৃহস্থ বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে সফলতার নিদর্শন তৈরি করছেন।

চাটমোহর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাবনার চাটমোহরের ১১টি ইউনিয়নে ১৮৪৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। মাঠের এসব জমিতে কৃষক কপি, লাউ, মুলা, শিম, আলু, বেগুন, বরবটি, পটলসহ বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি চাষ করেছেন। এর বাইরে গৃহস্থরা বাড়ির আঙিনায়ও চাষ করেছেন এসব শাকসবজি।

উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের ধরমগাছা গ্রামের রজব আলী নামক একজন কৃষক জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি তার বাড়ির সামনের পাঁচ শতাংশ উঠানে লাউ চাষ করেছেন। উঁচু জায়গা হওয়ায় আষাঢ় মাসেই তিনি মাদা তৈরি করে (চারা রোপণের জায়গা) লাউ বীজ রোপণ করেন। শ্রাবণ মাস থেকে লাউ সংগ্রহ শুরু করেছেন। প্রথম দফার লাউ গাছগুলো যখন পরিণত বয়স্ক হয়, গাছগুলো যখন লাউয়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে ঠিক তখনই তিনি অন্যত্র মাদা তৈরি করে নতুন বীজ রোপণ করেন। নতুন চারা মাচায় উঠতে মাস খানেক সময় লেগে যায়। পুরাতন গাছ যখন কম ফলন দেয় সেসময় গোড়া থেকে তা কেটে ফেলেন। মাচায় নতুন চারার শাখা প্রশাখা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এভাবে দুই তিন দফায় চারা রোপণ করে প্রায় নয়মাস ফলন পান তিনি। ফাল্গুন মাসের শেষে যখন বোরো ধান কাটার সময় হয় তখন উঠান প্রয়োজন হওয়ায় সব গাছ কেটে দেন তিনি। গত বছর বাড়ির উঠানে লাউ চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরও প্রায় ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছিলেন তিনি। এ বছরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।

রজব আলীর প্রতিবেশী ওসমান গনির পুত্রবধূ রিমা জানান, তারাও তাদের বাড়ির আঙিনার চার শতাংশ জায়গায় প্রতি বছর লাউ চাষ করেন। গত বছর প্রায় দশ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছিলেন। এ বছরও লাউ বিক্রি করে চলছেন তারা।

রজব আলী ও ওসমান গনির মতো চাটমোহরের শত শত গৃহস্থ এভাবে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, বাড়ির উঠান বা বাড়ির পাশের পতিত জমি ফেলে না রেখে সবজি চাষের মাধ্যমে তা কাজে লাগানো যায়। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে। অনেক গৃহস্থ বাড়ির আঙিনা ও বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জায়গায় সবজি চাষ করে সুফল পাচ্ছেন। তারা একদিকে যেমন পুষ্টি পাচ্ছেন তেমনি অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।

 
Electronic Paper