ফুল-ফলের বাগান তৈরিতে বেড়েছে আগ্রহ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ৪ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ফুল-ফলের বাগান তৈরিতে বেড়েছে আগ্রহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
🕐 ৩:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

ফুল-ফলের বাগান তৈরিতে বেড়েছে আগ্রহ

বাড়ির উঠান কিংবা ছাদ বা পতিত পড়ে থাকা জমিতে বাগান তৈরির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে অনেকের মাঝেই। করোনাকালে দীর্ঘ অবসরে অনেকেই তাদের পতিত থাকা জমি, ছাদ বা উঠানে ফুল বা ফলের চারা লাগিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন নিজের একখ- বাগান, সেই বাগানই যেন হয়ে উঠেছে পরিবারের সবার কাছে নির্মল আনন্দের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গেল দুই বছরে বাগান তৈরির প্রতি অনেকেরই ঝোঁক বেড়েছে। এর প্রমাণ মিলে ফুল-ফলের বাড়তি চারা বিক্রিতে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের চারা বিক্রির জন্য অন্যতম সরকারি প্রতিষ্ঠান হর্টিকালচার সেন্টারে চারা বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী ২০১৯-২০ সালে ফুল-ফলের চারাকলম বিক্রি হয়েছিল তিন হাজার ৩৯৭টি। আর এ বছর এখন পর্যন্ত চারা বিক্রি হয়েছে সাত হাজারের মতো। অন্যদিকে মৌসুমি ফুলের চারা ২০১৯-২০ সালে বিক্রি হয়েছিল ২৪ হাজার। আর এবছর বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজারের মতো। এর বাইরেও বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা বিক্রি হয়েছে। যার পরিসংখ্যান না থাকলেও নার্সারি মালিকরা বলছেন তাদের বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের হুজরাপুর মহল্লার বাসিন্দা মিম ইসলাম। একটি কলেজে চাকরি করেন তিনি। তিনি ছাদেই গড়ে তুলেছেন ফুল-ফলের বাগান।

তিনি জানালেন, ছাদে গাছ লাগানো হয়েছিল অনেকদিন থেকেই, তবে কাজের ব্যস্ততায় খুব বেশি যত্ন নেওয়া হতো না, তবে এবার বাড়িতেই থাকার কারণে ছাদে আরও ফুলের গাছ লাগিয়েছি। অনেকটা গাছ দিয়েই আমাদের বাড়ির ছাদটা সাজিয়েছি।

শহরের বেলেপুুকুর এলাকার আলি আশরাফ বাবুও তার উঠানে অনেক ফুল-ফলের চারাগাছ লাগিয়েছেন, সেই সঙ্গে জানালেন পতিত পড়ে থাকা জমিতে তিনি আমের বাগানও গড়েছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলার ইসলামাইল খান শামীমের ছাদ যেন ফুলের সমারোহ, তার ছাদ বাগানের শত ফুল গাছের সমাহার যে কারও মনকে ভালো করে দিতে পারে নিমিষেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জানান, ছাদ বা উঠানে ফুলের বাগানের প্রতি ঝোঁক ছিল অনেকেরই। এ বছর বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারা বিক্রি হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। মূলত গত বছর থেকেই চারা বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়।

উদ্যানতত্ত্ব¡বিদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলছেন, যেহেতু ছাদ বা অল্প জায়গায় মানুষ বাগান করছে, তাই তারা এসব বাগানের উপযোগী বিভিন্ন জাতের চারা কলমের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। যাতে অল্প জায়গাতেই এসব চারাগাছ বেড়ে উঠতে পারে। হর্টিকালচার সেন্টারে বেল, কদবেল, মিষ্টি কামরাঙ্গা, গোলাপজাম, কালোজাম, সাদাজাম, কাঠবাদাম, মিষ্টি তেঁতুলসহ বিভিন্ন জাতের কলম চারা তৈরি করা হয়েছে। এসব কলম চারা বাড়বে কম ও ছোট অবস্থায়ই ফল দেবে, ছাদ বাগানের জন্য যা খুবই উপযোগী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহীন সালেহ উদ্দিন জানান, অনেকেই বাগান তৈরির বিভিন্ন ধাপ নিয়ে পরামর্শ নিতে আসে তাদের কাছে। ছাদে কিভাবে বাগান করবে, বাণিজ্যিক বাগানের ক্ষেত্রে করণীয় কি, আবার মাঠে শৌখিন বাগানের ক্ষেত্রে পরিচর্যাসহ বাগান তৈরির সবগুলো বিষয়ই বুঝিয়ে দেন তারা।

মনামিনা কৃষি খামারের উদ্যোক্তা মতিউর রহমান বলেন, যুবকরা বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হয়েছেন, অনেকেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এসব বাগান গড়ছেন। এছাড়াও বাড়ির উঠানে বা ছাদেও বাগান করছেন অনেকে। এর কারণে চারার চাহিদা বেড়েছে, তারা উৎপাদনও বাড়িয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, করোনা আমাদের জন্য একটা দুর্যোগ, এ দুর্যোগে আমরা লক্ষ্য করেছি সব সেক্টরে পিছিয়ে না গেলেও আগাতে পারেনি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে গাছপালা, ফুল-ফল বা নার্সারি নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা ভালো করছেন। মানুষ অনেকটাই তার অবসর সময়কে কাটানোর উপলক্ষ্য খুঁজে পেয়েছে বাগান তৈরির মাধ্যমে।

 

 
Electronic Paper