সাঘাটায় বন্যার আশঙ্কায় আগেভাগে পাট কাটতে ব্যস্ত চাষিরা

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সাঘাটায় বন্যার আশঙ্কায় আগেভাগে পাট কাটতে ব্যস্ত চাষিরা

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
🕐 ৩:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২১

সাঘাটায় বন্যার আশঙ্কায় আগেভাগে পাট কাটতে ব্যস্ত চাষিরা

গাইবান্ধার সাঘাটায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও নেই কৃষকের মুখে হাসি। বন্যার আশঙ্কায় পাট পরিপক্ক না হতেই বাধ্য হয়ে পাট কাটায় বিপাকে পড়েছেন। ভালো দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়বেন বলে আশমকা করছেন। সাঘাটা উপজেলায় গত বছর পাটের দাম বেশি পাওয়ায় চাষিরা এ মৌসুমে যে যেখানে একটু জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই পাটের আবাদ করেছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভালো হওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে, মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী সপ্ন। কিন্তু বিধিবাম বন্যার আশঙ্কায় নদীর পার্শ্ববর্তী এবং চরাঞ্চলে আবাদকৃত পাট কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা।

নিচু জমি, চরাঞ্চল এবং নদীর কাছাকাছি জমিতে ইতিমধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে, কিছু কিছু পাট ক্ষেত ডুবে গেছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় রবি ফসল তলিয়ে গেছে। গত বছরের বন্যায় পাটের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এবার আগেভাগেই পাট কাটছেন তারা। বন্যার আশঙ্কায় সাঘাটা ইউনিয়নের সাথালিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের চাষিরা তড়িঘড়ি করে সময়ের আগেই পরিপক্ক না হতেই পাট কাটা শুরু করেন। করোনা সংকটে লক ডাউন এ কাজ কর্ম না থাকায় তাদের কাছে টাকা নেই, শ্রমিক নিতে না পেরে নিজেরাই পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে জমির পাট কেটে জাঁক ও পচানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে নদীর পানি কমতে থাকলেও শঙ্কা কাটছে না তাদের মনে।

চাষীরা জানান, বিঘা প্রতি পাট চাষে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পাট পরিপক্ক হতে বপন থেকে ৪ মাস সময় লাগে। পাট পরিপক্ক হলে ১০ থেকে ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়। এবার পরিপক্ক না হওয়ায় বিঘা প্রতি ৩ থেকে চার মণ পাট কম পাওয়া যাবে। ফলন এবং ভালো দাম পেলে লাভ হবে এমনটাই আশা করছেন চাষিরা।

উপজেলা পাট অধিদপ্তর উপ-সহকারী মোঃ জাকারিয়া বলেন, এ বছর উপজেলায় ২ হাজার ৪শ কৃষকের মাঝে সার ও পাটের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে কৃষকদের পাট চাষমুখী করতে আরও বেশি কৃষকের মাঝে সার ও বীজ দেয়া হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাদেকুজ্জামান জানান, এ বছর ৩ হাজার ৬শ ৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । এবারে রবি-১, তোষা পাট-৮ জাত বেশি আবাদ করেছেন কৃষকরা। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূল থাকলে পাটের বাম্পার ফলন হবে।

 

 
Electronic Paper