পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় কৃষক

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

print
পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় কৃষক

করোনার রেশ কাটিয়ে আবারো মৌসুমি ফসল তরমুজ চাষে স্বপ্ন বুনছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কয়েক হাজার তরমুজ চাষীরা। ফসলের সোনালি মাঠজুরে রয়েছে সবুজ রঙের চাদরে মোড়ানো তরমুজ গাছের সমরহ। ফসলের এমন মাঠ দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কৃষকের মুখে ফুটে উঠা হাসি কেড়েছে কাটুই পোকা।

পোকার আক্রমণ ও গোড়া পচা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে ফলনসহ তরমুজ গাছ। এমনটা কেনো? এ দৃশ্য দেখে লাভবান তো দূরের কথা, শ্রমমূল্য, উৎপাদন খরচই উঠবে না। তাই ঋণের টাকা মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তরমুজ চাষীরা।

তবুও বুকভরা আশা নিয়ে তরমুজ ক্ষেতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে তারা। কাটুই পোকার আক্রমণে তরমুজ গাছের গোড়ায় পচন ধরে মারা যাচ্ছে। এই রোগ থেকে পরিপুষ্ট তরমুজ গাছকে রক্ষা করতে না পারলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সঠিক সময়ে, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ ও পোকা দমন করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা কৃষি অফিস তথ্যমতে, চলতি বছর ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এবং নতুন করে জমি প্রস্তত করছে।

উপজেলার চর-ইমারশন গ্রামের তরমুজ চাষী মিথেল হাওলাদার জানান, গত বছর ২ কানি জমি ৪-৫ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রস্তত করেছেন। জমিতে বীজ রোপণের পরপরই বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় রোপণকৃত বীজ। যার ফলে ৫০-৬০ টাকা বেশি খরচে একই জমি ২-৩ বার চাষ করে বীজ রোপণ করেন। ফলন ভাল হয় কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে পাকা তরমুজ বাজারজাত না করায় ক্ষেতেই মিশেছে পাকা তরমুজ। এতে দুই লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।

পূর্বের লোকসান মেটাতে চলতি বছরে অর্জিত সঞ্চয় ও ঋণ নিয়ে ২ কানি জমিতে তরমুজ বীজ রোপণ করেন। তরমুজ চারা দেখে মন ভাল লাগলেও হঠাৎ করে ফলনসহ মরে যাচ্ছে তরমুজ গাছ। এ রোগ প্রতিরোধে নানান প্রকার কিটনাশক ব্যবহার করলেও কোনও প্রতিকার মিলছে না। চলতি বছরে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও কিভাবে ঋণের টাকা মেটাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

একই গ্রামের তরমুজ চাষী কাওছার মৃধা জানান, তরমুজ চাষে জমি প্রস্তত করে বীজ রোপণ করি। চারা যখন চার পাতা ছাড়ে তখন গাছের মাথা লাল হয়ে ১৬০ শতাংশ জমির চারা মরে গেছে। এতে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়। পুনরায় ওই জমিতে বীজ রোপণ করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, অনেক সময় কাটুই পোকা গাছের গোড়া কেটে দেয়। কিংবা গোড়া পচা রোগের কারনে গাছ মারা যায়। উক্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বালাইনাশক ব্যবহার করলে সমাধান মিলবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কৃষকের সেবায় কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।