খানসামায় সরিষায় সম্ভাবনার হাতছানি

ঢাকা, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

খানসামায় সরিষায় সম্ভাবনার হাতছানি

এস এম রকি, খানসামা (দিনাজপুর) ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

print
খানসামায় সরিষায় সম্ভাবনার হাতছানি

হলুদ ফুলে ছেয়ে আছে দিনাজপুরের খানসামার দিগন্তজোড়া মাঠ। পৌষের মৃদু বাতাসে দুলছে সরিষার ফুল। সেই হলুদ ফুলে ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। এলাকায় সরিষার ব্যাপক ফলনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনা দিচ্ছে হাতছানি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৮৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে বেশি ফলনের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কৃষকরা। গত বছর উন্নত জাতের সরিষার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছে।

গত কয়েকদিন উপজেলার দুহশুহ, ছাতিয়ানগড় ও চকরামপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সরিষার হলুদ ফুলে সেজেছে ফসলের মাঠ। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের উৎপাদন খরচ বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে বোরো ও আমন ধান আবাদে সেচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক মিলে আট থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু উৎপাদিত ধান বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। অন্যদিকে প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে খরচ হয় তিন থেকে চার হাজার টাকার মতো। আর ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে ৮-১০ মন পর্যন্ত সরিষা পাওয়া য়ায়। প্রতি মন সরিষার দাম ২০০০-২৫০০ টাকা। ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৃষক অলেকান্ত বলেন, আমন ধান কাটার পর জমিগুলো পড়ে থাকে তাই প্রতি বছর আমার জমিগুলোতে সরিষা চাষ করি। এবারও সরিষা চাষ করেছি। গাছ অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাসুদেব রায় জানান, তেল জাতীয় ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া সরিষা চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এ বছর তারা বেশি জমিতে সরিষা চাষ করছেন। এতে এক জমিতে দুইয়ের বেশি ফসল চাষাবাদ করে কৃষকরা সফল হচ্ছে।