মুক্তা চাষে সফলতা

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

মুক্তা চাষে সফলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

print
মুক্তা চাষে সফলতা

বরগুনা জেলায় মুক্তা চাষ করে সফল হয়েছেন নুরুল ইসলাম। অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে মুক্তা চাষের প্রদর্শনী খামার গড়ে তুললেও সেই প্রকল্প সফল হওয়াতে এখন বাণিজ্যিকভাবে মুক্তা চাষে আগ্রহী তিনি। তিনিই জেলার প্রথম খামারি যিনি পুকুরে ঝিনুকের মুক্তা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ তার এ খামার পরিদর্শন করে সরকারি ঋণ সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন।

বরগুনা সদর উপজেলার লতাবাড়িয়া গ্রামে ব্রাইট এগ্রো নামের কৃষি খামারের মালিক অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম তার ছোট ভাই টেকসই উপকূলীয় মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলামের পরামর্শে এ এগ্রো ফার্মে ২০১৯ সালে মাছের পাশাপাশি ঝিনুকের মুক্তা চাষের প্রকল্প হাতে নেন। গড়ে তোলেন একটি প্রদর্শনী খামার।

নুরুল ইসলাম জানান, তিনি সুনামগঞ্জে চাকরি করার সময় মুক্তা চাষ দেখেছেন। সেখান থেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরামর্শ নিয়ে মুক্তা চাষ শুরু করেছেন। তার খামারটিতে প্রাকৃতিক জলাধার থেকে মান সম্পন্ন ঝিনুক সংগ্রহ করে ঝিনুকের মুখ ফাঁকা করে ঝিনুকের খোসার গুড়া ও ২ ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যের সংমিশ্রণে বিভিন্ন ধরনের ডাইচের ভেতরে স্থাপন করা হয়।

৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে ঝিনুকের ভিতরে মুক্তা আহরণের উপযুক্ত হয়। আর এসকল কাজে ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। বাড়ির পাশে পুকুর ও জলাধারে এরকম মুক্ত চাষ সম্ভব ব্যয়ের পরিমাণ ও কম। উৎপাদিত মুক্তা প্রতিটি গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

টেকসই উপকূলীয় মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুয়েলারি, ওষুধ শিল্পে, কসমেটিক্স, পেইন্টস ফরমুলেসনে মুক্তা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মুক্তা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। আমাদের দেশে হাওড় ও বিলে প্রাকৃতিকভাবে মুক্তা পাওয়া যায়। এটি চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হলে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্জন করা সম্ভব।

জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, এলাকার অনেকেই এখন মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আগ্রহী চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কেউ মুক্তা চাষ করতে চাইলে তিনি প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে সহায়তা করবেন। বরগুনা থেকে গ্রিসে মুক্তা রপ্তানি করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি; আরও জানান, নুরুল ইসলাম।

বরগুনায় পুকুরে মুক্তা চাষ পদ্ধতি অতি সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

তিনি জানিয়েছেন, মুক্তা চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে সফল হতে পারবেন এখানকার আগ্রহী চাষিরা। তিনি মুক্তা চাষে আগ্রহী কৃষকদের জন্য সরকারি ঋণ সহায়তা পাইয়ে দেবার আশ্বাস দিয়েছেন।