দামে খুশি চাষিরা

ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ১৩ কার্তিক ১৪২৭

দামে খুশি চাষিরা

হাসান বাপ্পি, ঠাকুরগাঁও ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

print
দামে খুশি চাষিরা

গতবারের তুলনায় এবার ফলনও যেমন, দামও তেমন। খুশি না হওয়ার কোনো কারণই নেই চাষিদের। করলা চাষও সোজা। তাছাড়া অল্প সময়ে কম পুঁজিতে বেশি লাভও হয়। এতেই বাড়িয়েছে আগ্রহ। বৈশ্বিক মহামারী করোনার মাঝেই করলার চাষ শুরু করেন ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা। তাদের কাছ থেকে সংগৃহিত করলা এ অঞ্চলের সবজির স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সদর উপজেলার রাজাগাঁও, আসান নগর, চাপাতি, রাজারামপুর খড়িবাড়ী, দক্ষিণ বঠিনা, উত্তর বঠিনা, ঝলঝলি, ফরিদপুর, বড়দেশ্বরী, ধর্মপুর, বোয়ালিয়া চোপড়াপাড়াসহ রুহিয়ার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুইশ’ চাষি চাষ করেছেন করলা। সাধারণত বছরে এক জমিতেই দুবার করলা চাষ করা যায় বলে জানান চাষিরা। 

সদর উপজেলার পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান, মসলেম মিঞাসহ অন্য সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বাসিন্দাদের চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর আগেও অন্য জেলা থেকে করলা আনতে হতো। কয়েক বছর ধরে এ জেলার উৎপাদিত করলাই বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আগে প্রতি কেজি করলা ৭০ থেকে ৮০ কিংবা একশ’ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ করলা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকায়। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বাজার, রোড বাজার ও কালীবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব করলা।

ঠাকুরগাঁও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আগস্ট থেকে অক্টোবর ও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে জমিতে দুবার করলা চাষ করা যায়। সাধারণত রোপণের ৪০-৫০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। মাত্র দেড় মাসে ফলন পাওয়া যায় বলে এই ফসলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে চাষিদের মধ্যে। তাই এ জেলায় করলা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের বড়দেশ্বরী গ্রামের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী নিরাপদ কৃষি খামারের করলা বাজারজাত শুরু হয়েছে। পদকপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান উল্লাহ জানান, চার পাঁচ বছর ধরে করলা চাষ করে লাভবান হচ্ছি। আমার দেখাদেখি গ্রামের অন্য চাষিরাও করলা চাষে ঝুঁকছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ২৩০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে প্রায় ১৭০০০ কেজি। এবার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আগামীতে এর চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছি। এর ফলন আরও ভালো করার লক্ষ্যে কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।