কাটারিভোগে সাফল্য

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

কাটারিভোগে সাফল্য

দিনাজপুরে চাষিদের মুখে হাসি * এক বছরে দুটি ফলন * নতুন জাতের ধান

তানজেরুল ইসলাম ও এস এ স্বপন মৃধা, দিনাজপুর ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

print
কাটারিভোগে সাফল্য

একদিকে বৈশ্বিক করোনা মহামারী। অন্যদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারীবর্ষণ। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরে কাটারিভোগ ধানের বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন চাষিরা। জেলাটির ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সঙ্গে মিশে থাকা কাটারিভোগের বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। খেতে সুস্বাদু ও সুগন্ধ ছড়ানো কাটারিভোগ চালের পাশাপাশি এ ধানের চিঁড়া দেশব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, কাটারিভোগ ধান দেশের অন্য জেলায় আবাদ হলেও চালের স্বাদ ও ঘ্রাণ ভিন্ন হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দিনাজপুর উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, অন্যান্য যে কোনো বছরের তুলনায় চলতি বছর জেলায় কাটারিভোগ ধানের ফলন বেশি হয়েছে। ২০১৯ সালে দিনাজপুরে ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে কাটারি ধানের ফলন হয়েছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন।

চলতি বছর প্রথম দফায় ওই একই পরিমাণ জমিতে সমপরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়েছে। চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় কাটারি ধানের ফলন ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘৩৪ কাটারি ভোগ’ (ফাইন রাইস) জাতের ধান চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা।

দিনাজপুরে উৎপাদিত মোট কাটারি ধানের চাল অর্ধেকের বেশি রপ্তানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিদেশি চালের প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় কাটারি চালের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন জাতের কাটারি ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহী করার পাশাপাশি কাটারি চাষে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে জেলার কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দিনাজপুর উপ-পরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, বর্তমান করোনাকালীন সময়ে কাটারি ধানের বাম্পার ফলন কৃষিতে একটি মাইলফলক। কাটারি ধানের জন্য প্রসিদ্ধ দিনাজপুরে ‘৩৪ কাটারি’ জাতের ধান চাষ করে কৃষক বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। যেখানে আমন ধানের কেজি ৩৫-৪০ টাকা, সেখানে কাটারি ধান বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকায়।

কাটারি ধান চাষি আল-আমিন জানান, কাটারি ধান বছরে একবার চাষ করা হলেও ইরি মৌসুমে আরও একবার চাষ হয়। ওই মৌসুম শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। ফসল ওঠে বৈশাখে। এ সময় বিঘাপ্রতি (৫০ শতাংশ) কাটারি চাষে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ধানের ফলন হয় অন্তত ৪০-৪৫ মণ। খরচ বাদে বিঘাপ্রতি আয় হয় ১০-১৫ হাজার টাকা। চলতি বছর তিনি বিঘাপ্রতি কাটারি ধান চাষে খরচ করেছেন ১৪ হাজার টাকা। ধান বিক্রি করে বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকা আয় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।

চাষি দেবেন চন্দ্র দেব বলেন, কাটারি ধান চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। আরও বেশি পরিমাণ জমিতে কাটারি ধান চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।