মাল্টা চাষে সফলতা

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মাল্টা চাষে সফলতা

আরিফ মোস্তফা, পিরোজপুর ১২:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

print
মাল্টা চাষে সফলতা

পিরোজপুরে মাল্টা চাষ বাড়ছে। সফল চাষিদের দেখাদেখি মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন ৫০০-৬০০ জন। পিরোজপুরের মাল্টা ইতোমধ্যে সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি এ ফলের দেশীয় চাহিদা মেটাতে অতীতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। কয়েক বছরের মধ্যে এ জেলায় উৎপাদিত মাল্টা এখন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করছে। এ জেলার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী। ফলে প্রতি বছরই চাষ বাড়ছে।

পিরোজপুরের সাবেক উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জগত প্রিয় দাস বিষু জানান, কয়েক বছর আগে সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের অমলেশ রায় দেড় একর জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি অনেকে এর চাষ করছেন। বিভিন্ন উপজেলায় এর বিস্তৃতি ঘটছে। দোকানে বিদেশি ফলের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ফলটিও বিক্রি হচ্ছে দেদার। শহরের খাদ্য সচেতন মানুষের কাছে এ মৌসুমি ফলের কদরও বেশ। তাজা, বিষমুক্ত, সুমিষ্টি লেবু জাতীয় ফলের কদর বিদেশ থেকে আনা কমলা, মাল্টা, ডালিমের সঙ্গে বেশ পাল্লা দিয়েই বেড়ে চলছে। ক্রেতা-দোকানির কাছে আমদানি করা হলদে রঙের চেয়ে এ জেলার সবুজ মাল্টার কদর বেশি।

পিরোজপুর সদরের মাল্টা চাষি আবু জালাল জানান, বিভিন্ন কৃষি পণ্যের থেকে মাল্টা অল্প খরচ ও কম খাটুনিতে বেশি লাভ পাওয়া যাচ্ছে। মাল্টা বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পাইকারি ৬০-৮০ টাকায় কিনে বাজারে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে আরও বেশি জায়গায় মাল্টার চারা রোপণ করব। সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ জানান, কয়েক বছর আগেও এ জেলায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলের মধ্যে পেয়ারা ও আমড়ার নাম ছিল শীর্ষে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকায় এ ফল দুটির ব্যাপক চাহিদা ছিল।

মাত্র চার বছরে কয়েক ফলচাষি কৃষি বিভাগের সহায়তা নিয়ে এ জেলার সম্ভাবনাময় মাল্টায় পরিচিতি পান। এখানে দোআঁশ মাটি মাল্টা চাষে উপযোগী, স্থানীয় কৃষকদের তা জানা ছিল না। প্রথমে শখের বশে কেউ কেউ মাল্টা বাগান করতেন। বর্তমানে এ জেলায় প্রায় ৯৫০টি মাল্টা বাগান রয়েছে। আর সফলতার মুখ দেখছেন অনেকেই।

তিনি আরও জানান, মাল্টা চাষে সার্বিক উন্নয়নে জেলা-উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কৃষকদের চারা, সার ও পরামর্শ দেওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর আরও মাল্টা বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদ। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যসূত্রে, পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, মঠবাড়িয়া, কাউখালীসহ জেলায় এবার ৯৫০টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। চাষাবাদ জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৫ হেক্টরেরও বেশি।