আখ চাষে ভাগ্যবদল

ঢাকা, রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আখ চাষে ভাগ্যবদল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

print
আখ চাষে ভাগ্যবদল

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি বা পরিশ্রম বয়ে আনে সুখ- এই প্রবাদ বাক্যগুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুই সহোদর রাকিব হোসাইন ও মো. আজিম। প্রায় চার বিঘা জমিতে গেন্ডারি জাতের আখ চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন এই দুই ভাই। উপজেলার চিথলিয়ায় সাড়ে ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আখ চাষ করেছেন। এখন ভালো ফলন এবং দামে খুশি তারা।

রাকিব হোসাইন বলেন, আমি একজন তরুণ উদ্যোক্তা। যশোর থেকে আমার বাবার এক বন্ধুর মাধ্যমে আখ চাষ সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর আমার ভাইকে নিয়ে চিথলিয়া মাঠে সাড়ে চার বিঘা জমি বর্গা নিই। প্রায় দশমাস আগে যশোর থেকে বীজ সংগ্রহ করে গেন্ডারি জাতের আখ রোপণ করি। সাড়ে চার বিঘা আখ চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে জমি বর্গা নিতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া বীজ কেনা, শ্রমিক, সার, সেচ ইত্যাদি দিয়ে বিঘা প্রতি আখ চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে আমার ক্ষেতে প্রায় ৬০ হাজার পিস আখ রয়েছে। প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বাজারে পাইকারি দামে বিক্রি করছি। যদি প্রতি পিস ৩০ টাকা হারে বিক্রি করা যায় তবে ৬০ হাজার পিসের দাম দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে প্রায় ১৪ লাখ টাকা লাভ হবে।

রাকিবের ভাই আখ চাষি মো. আজিম বলেন, অনেক দিন দেশের বাইরে ছিলাম। ওখানে থেকে ৩-৪ লাখ টাকা খরচ করে কোনো আয় হয়নি। এরপর অন্য আবাদ করেও লাভ দেখিনি। শেষে আখ চাষের পদক্ষেপ নিই। এখন দেখছি এটি খুব লাভজনক। আশা করি এখান থেকে অনেক সুফল পাব। আখ কাটায় ব্যস্ত দুই ভাই আজিম
আরও বলেন, চার বছর দেশের বাইরে ছিলাম। কিন্তু কিছু করতে পারিনি। দেশে ফিরে আখ চাষের সিদ্ধান্ত নিই। ইতোমধ্যে আমাদের আখ বিক্রি শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এর মাধ্যমে ভাগ্য বদল করতে পারব।

স্থানীয় চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গিয়াস আলী পিস্তল বলেন, এই অঞ্চলে গেন্ডারি আখের বেশ কদর। বর্তমানে দামও বেশ ভালো। এই দুই তরুণ দারুণ কাজ করেছে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, কুষ্টিয়া জেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে মিলিং আখ আর ৩১৫ হেক্টর জমিতে গেন্ডারি আখের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে মিরপুর উপজেলাতে প্রায় ৩ একর জমিতে গেন্ডারির চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে গেন্ডারি চাষ করে প্রায় ৪ লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছে চাষিরা।

এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে কৃষি একমাত্র শেষ আশ্রয়স্থল। কৃষিকে অবলম্বন করে আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন। তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আখ চাষ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এখানে কিছু জমিতে তামাকের আবাদ হয়। তামাকের বিকল্প হিসেবে তরুণ উদ্যোক্তারা আখ চাষ করে আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ৪৬৭ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে মিলিং আখ ১ হাজার ১৫২ হেক্টর এবং ননমিলিং আখের চাষ হয়েছে ৩১৫ হেক্টর জমিতে।