দিনাজপুরে করোনায় লিচুর বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিতায় লিচু চাষীরা

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দিনাজপুরে করোনায় লিচুর বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিতায় লিচু চাষীরা

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর ১:০০ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
দিনাজপুরে করোনায় লিচুর বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিতায় লিচু চাষীরা

দিনাজপুরে থোকায় থোকায় লিচু গাছে ঝুলছে। এরই মধ্যে কিছু লিচুতে পাকা ধরা শুরু করেছে। সারা দেশেই কমবেশি লিচু চাষ হয়ে থাকে।
জেলায় এবার লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রতিটি লিচু গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় লিচু।

আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে লিচু বাজারজাত করা হবে। তবে এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে লিচু বাজারজাত করা নিয়ে চাষিরা চরমভাবে আশঙ্খার মধ্যে রয়েছে। কাক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে কিনা এই নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন লিচু চাষী। এ বছর দিনাজপুর জেলায় ছয় হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে।

এক হেক্টর জমিতে ২৭৫টি লিচু গাছ রয়েছে। সেই হিসাবে জেলায় ১৫ লক্ষাধিক লিচু গাছে লিচুর আবাদ হয়েছে। এবার লিচুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার মেঃ টন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর লিচুর বাজারজাত নিয়ে জেলার লিচু চাষীরা ক্ষতির আশংকা করছেন। লিচু যদি দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠাতে না পারলে এ পচনশীল লিচুর বাজার নিয়ে দুচিন্তায় রয়েছেন চাষীরা।

এ জেলার যেসব স্থানে লিচু চাষ হয় তার মধ্যে সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, খানসামা উপজেলা বিখ্যাত। দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও কাঁঠালি উল্লেখযোগ্য। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন , কৃষি সম্প্রসারনের পক্ষ থেকে লিচু চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত সে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে লিচু দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষীরা। কারন জেলায় প্রচুর লিচুর আবাদ হয়েছে। প্রতিবছর এই আবাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লিচু চাষী যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয সেই দিকেও খেয়াল রেখে লিচু চাষীদেরকে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে সেই বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিং হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু প্রায় এক মাস পর লিচু মাড়াই শুরু হবে। তাই এখনও লিচু চাষীরা আশা বুক পেতে রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে ও যান যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে এমন প্রত্যাশ করছেন লিচু চাষীরা।

মাধববাটির লিচু চাষী আব্দুল করিম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর ভাল ফলন হয়েছে। লিচুর মুকুল আসার পর থেকেই লিচুর বাগানে পরিচর্চা অব্যাহত রেখেছি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে লিচুর বাজার জাত নিয়ে দুঃচিন্তায় ঘুম আসে না।