ট্রে পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারার চাহিদা বাড়ছে

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ট্রে পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারার চাহিদা বাড়ছে

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

print
ট্রে পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারার চাহিদা বাড়ছে

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মাটির সঙ্গে কোন প্রকার সংস্পর্শ ছাড়াই ফল ও সবজি গাছের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে কয়েকটি নার্সারীতে। প্লাটিকের ট্রেতে মাটির পরিবর্তে কোকোপিট বা নারিকেলের ছোবড়া ব্যবহার করে শতভাগ সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদন করছেন খামারিরা। স্বল্প সময়ে বেশি ফলন হওয়ায় এতে যেমন লাভবান হচ্ছেন খামারি তেমন লাভবান হচ্ছে কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই পদ্ধতির চারাগুলোর গুনগত মান ভালো হয়। উপজেলার কয়েকটি নার্সারিতে একটি বেসরকারি এনজিও এ পদ্ধতিতে চারা তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে। পাশপাশি কৃষি বিভাগ থেকেও নার্সারিগুলোতে পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। 

নার্সারি মালিক মো. মোখলেছার রহমান জানান, তিনি বিগত প্রায় ১০ বছর পূর্ব থেকে গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে ব্যবসা করে আসছেন।

প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করলেও নার্সারি ব্যবসায় সাফল্য পাওয়ায় এখন তার দুইটি নার্সারি। গত এক বছর পূর্বে একটি এনজিওর মাধ্যমে তিনি শুরু করেন ট্রে পদ্ধতিতে মাটির সংস্পর্শ ছাড়াই কোকোপিট ব্যবহার করে সবজি ও ফলজ গাছের চারা উৎপাদন। তাতে তিনি সফল হন। শতভাগ রোগমুক্ত সুস্থ সবল চারা উৎপাদন করতে তিনি চারা উৎপাদনের স্থানটি নেট জাল ঘিরে রেখেছেন। ফলে চারা উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত কোন প্রকার পোকা মাকড় আক্রমন হয় না।

অপর দিকে মাটির সংস্পর্শ ছাড়াই চারা উৎপাদন হওয়ায় চারাতে মাটি বাহিত কোন ভাইরাস আক্রমন করেনা। ফলে শতভাগ সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদন হয় তার খামারে। অনেক কৃষক শুধুমাত্র ভাল চারা কিনতে না পারার কারণে ভাল ফলন ফলাতে পারে না। ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষক। কিন্তু ট্রে পদ্ধতির চারা রোপন করে কৃষকের ফলন বেশ ভাল হচ্ছে। সুস্থ ও সবল চারা হওয়ায় কীটনাশকের প্রয়োজনীয়তা কম হয় ও দ্রুত সময়ে গাছে ফলন আসে। ফলে এই চারাগুলির চাহিদা দিনদিন বেড়েই চলছে। ট্রে পদ্ধতিতে পেঁপে, করলা, চাল কুমড়া, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, ফুলকপি, টমেটো ও মরিচের চারা উৎপাদন হয়ে থাকে। ৪৫ দিনের মধ্যে চারাগুলি পরিপক্ক হয়। অল্প সময়ে ফলন বেশি হওয়ায় এ চারার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ থেকে এ চারা উৎপাদনে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও উপকরণসহ সহায়তা প্রদান করে এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন বৃদ্ধি করা হলে সবজি ও ফল চাষে ব্যাপক লাভবান হবেন কৃষকরা এমনটি দাবি খামারিসহ সংশ্লিষ্টদের।