নাগেশ্বরীর চরাঞ্চলে সূর্যমূখীর হাসি

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

নাগেশ্বরীর চরাঞ্চলে সূর্যমূখীর হাসি

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ২:০৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০

print
নাগেশ্বরীর চরাঞ্চলে সূর্যমূখীর হাসি

কড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর বিভিন্ন চরাঞ্চলের পতিত জমিতে সরকারের কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হয়েছে সূর্যমূখী। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যায় আবাদও হয়েছে ভালো। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চাষ করা এসব সূর্যমূখী ক্ষেত এখন হলুদ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। এরই মধ্যে বেশকিছু ক্ষেতের ফুলে দেখা দিয়েছে কালো দানা। ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছে কৃষকেরা।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, সূর্যমূখী থেকে পাখির খাবারের পাশাপাশি কোলস্টরেল মুক্ত তেল উৎপাদন করা হয়ে থাকে যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাজারে। ফলে এ ফসল চাষে লাভবান হবে কৃষক।

উপজেলার দুধকুমার নদীর চরাঞ্চল নুনখাওয়া ইউনিয়নের চর সাররিসুরি, ব্যাপারীর চর এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ওয়াপদাপাড়ের গাছফাড়ী এলাকায় চাষ হয়েছে সূর্যমূখী ফুলের চাষ। এসব ক্ষেতে ভালো ফলন হয়েছে। গাছে গাছে ফুটেছে বিশাল আকৃতির ফুল। কিছু কিছু ফুলে এসেছে কালো কালো বীজ। যা থেকে তৈরী হবে তেল এবং খৈল থেকে তৈরী হবে পাখির খাবার।

সব ঠিক থাকলে আর মাস খানেকের মধ্যে ঘরে উঠবে প্রত্যাশিত ফসল। পতিত জমিতে কম খরচে ফসলের এমন ফলনে হাসি ফটেছে কৃষকের মুখে। ভালো ফলনে লাভের প্রত্যাশা করছে কৃষক।

নুনখাওয়া ইউনিয়নের সারিসুরি গ্রামের সূর্যমূখী চাষি আতাউর রহমান ও নাজির রহমান জানান, এবারই প্রথম ১৫ বিঘা জমিতে সূর্যমূখী চাষ করেছেন তারা। জমি প্রস্তুত, সেচসহ উৎপাদনে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। উপজেলা কৃষি অফিস বীজ এবং কীটনাশক দিয়ে সহযোগিতা করেছে।

বামনডাঙ্গার চাষি গোলাম মোস্তফা জানান, তিন বিঘা জমিতে এবারই প্রথম এই ফসল চাষ করেছেন। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভের আশা করছেন তিনি।

কুড়িগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, একর প্রতি ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ করে ফলন পাওয়া যায় দুই থেকে আড়াই টন। যা উৎপাদন খরচের তিনগুন দামে বিক্রি করা যায়। এবার একর প্রতি গড়ে দুই টন ফলন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আগামীতে জেলার চরাঞ্চলের পতিত জমিগুলোকে সূর্যমূখী চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর জেলার নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ি এবং সদর উপজেলার ৫৫ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে সূর্যমূখীর চাষ।