কুড়িগ্রামের চরে সম্ভাবনার দ্বার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

কুড়িগ্রামের চরে সম্ভাবনার দ্বার

জাহিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

print
কুড়িগ্রামের চরে সম্ভাবনার দ্বার

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে সূর্যমুখী চাষ। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে দিন দিন সূর্যমুখী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগ চরাঞ্চলের পতিত জমিগুলোতে সূর্যমুখী চাষে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, সরকারি সহযোগিতায় জেলার চরাঞ্চলগুলোতে সূর্যমুখী চাষের প্রসার ঘটানো ও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে পাল্টে যেতে পারে অবহেলিত চরাঞ্চলগুলোর দৃশ্যপট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামের বেশ কিছু কৃষক চরের জমিতে বিপুল পরিমাণ সূর্যমুখী চাষ করেছে। ধু ধু বালু জমিতে এখন সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। শুধু কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এবার জেলার চরাঞ্চলগুলোর ২২ হেক্টর বালু জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ মেট্রিক টন। এছাড়াও বীজ ও সার সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন মাঠ দিবসের মাধ্যমে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রাম জেলা সদরের কৃষক ও উদ্যোক্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তায় আমি ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে ধরলা তীরবর্তী চরে এ বছরই প্রথম ৭ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। প্রথম দিকে চিন্তায় থাকলেও এখন ফুল দেখে মন ভরে গেছে। তবে হারভেস্ট মেশিন ছাড়া সূর্যমুখী বীজ সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে। সেজন্য তিনি ভর্তুকি মুল্যে হারভেস্ট মেশিন সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি আশা করছেন, বাজার মূল্য পেলে লাভবান হবেন।

জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুক জানান, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলগুলোকে কাজে লাগিয়ে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে তা বদলে দেবে এ অঞ্চলের কৃষিচিত্র।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করছি।

এ ব্যাপারে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান বাজারের ভেজাল ভোজ্য তেল পরিহার করে সূর্যমুখী তেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রতি কেজি সূর্যমুখী বীজ থেকে আধালিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। আশা করা হচ্ছে চরাঞ্চলে চাষকৃত সূর্যমুখী থেকে প্রতি বিঘা জমিতে ৪ থেকে ৬ মণ বীজ উৎপাদন হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ বালু চরে আবাদকৃত সূর্যমুখী ক্ষেত পরিদর্শন করে চরাঞ্চলের পতিত জমিগুলো ব্যবহার করে সূর্যমুখী চাষ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব না পড়লে এবার সূর্যমুখীর ফলন আশাতীত হবে। পাশাপাশি আগামীতে সূর্যমুখীর বীজ সহজে পাওয়া গেলে চরাঞ্চলগুলোতে আরও ব্যাপক হারে সূর্যমুখী চাষ বৃদ্ধি পাবে।