পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

আব্দুল্লাহীল বাকী বাবলু, পীরগঞ্জ (রংপুর) ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০২০

print
পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

চলতি মৌসুমে দেশে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ঘাটতি পূরণে সহায়ক হিসেবে প্রদর্শনী আকারে বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ডাল, তেল ও মসলা বীজ সংরক্ষণ প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় উপজেলার রায়পুর ও ফতেপুরে প্রায় দুই একর জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বিক সহায়তায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মানিক মিয়া একজন।

পরিশ্রমী এ কৃষক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অনুপ্রেরণায় নিজস্ব প্রায় এক একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছেন। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ ভিত্তিক এ উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করে তার প্রদর্শনী প্লটের প্রশংসা করেছেন।

মানিক মিয়া জানান, আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল সত্বেও কৃষি বিভাগের সহায়তা ও পরামর্শে বীজ উৎপাদনে যথেষ্ট শ্রম বিনিয়োগ করতে হযেছে। পেঁয়াজ চাষ সম্পর্কে তিনি জানান, জমিতে পাঁচ থেকে সাত বার চাষ দিয়ে মাটি ক্ষুদ্রাকার ও বিছানা তৈরি করতে হয়। সেইসঙ্গে বিছানার পাশ দিয়ে তৈরি করতে হয় ছোট ছোট নালা। যাতে জমিতে পানি জমে যেতে না পারে। এরপর বিঘা প্রতি প্রায় ছয় মণ করে দেশি জাতের পেঁয়াজ রোপণ করতে হয়। রোপণের সময় বিঘাপ্রতি পরিমাণ মত জৈব সার, দস্তা দুই কেজি, পটাশ ২০ কেজি, বরুণ দুই কেজি ও ইউরিয়া সার ১০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজে ফুল আসা মাত্রই মশা, জাব পোকা ও ল্যাদা পোকার আক্রমণ হতে পারে। এর মধ্যে ল্যাদা পোকা সব চেয়ে মারাত্বক। পেঁয়াজ ফুল দেখতে কদম ফুলের মত। এ ফুল থেকেই বের হয় কালো রঙ্গের দানা। যাকে কৃষক কালো সোনা নাম দিয়েছে।

তার মতে, জমি চাষ থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, দিনমজুর, ফসল উত্তোলনসহ বিঘা প্রতি ব্যায় হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর প্রতি একর জমিতে বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা এক থেকে দেড় মণ। বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের বাজার দর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এ হিসেবে বিঘা প্রতি উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজের দাম মণ প্রতি ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বিক্রি সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন, আমাদের দেশে যে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৫৭.১৪ ভাগ মেটানো সম্ভব। দেশে পেঁয়াজের বিশাল ঘাটতি রয়েছে। প্রতি বছর চাহিদা পূরণের জন্য বিপুল পরিমাণ কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ৫০০-৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। পেঁয়াজের ফলন বৃদ্ধির জন্য মানম্পন্ন বীজ উৎপাদন অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ। আর স্থানীয়ভাবে চলতি বছরে পীরগঞ্জে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা দিয়ে প্রায় ১৫০ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা সম্ভব হবে।