দিশেহারা আলু চাষিরা

ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

লেট ব্লাইট রোগ

দিশেহারা আলু চাষিরা

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২০

print
দিশেহারা আলু চাষিরা

উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে দিনাজপুর, নীলফামারী ও জয়পুরহাটের আলু ক্ষেত ‘লেট ব্লাইট’ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আলু গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বালাইনাশক স্প্রে করেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। আলুর ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সেভাবে পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। রোগ প্রতিকারে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, দিনাজপুরে এ বছর প্রায় ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বেশি। তবে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়লেও প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় আলুর ক্ষেতে দেখা দিয়েছে লেট ব্লাইট রোগ। এই রোগের আক্রমণে পচে যাচ্ছে আলুর পাতা ও কাণ্ড।

এখন কৃষকের ভরসা কীটনাশক দোকানদারদের ওপর। তবে স্প্রে করেও তেমন ফল মিলছে না।

দিনাজপুরের কৃষকরা বলছেন, আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তিন দিন পরপর ওষুধ দিছি, কিন্তু কোনো কাজ হয় না। প্রতিদিন নতুন নতুন জমি আক্রান্ত হচ্ছে। আলু গাছের শুধু কাণ্ড পড়ে আছে, পাতা-আগা কিছুই নেই। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাদের। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, আক্রান্ত ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করাসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, আক্রান্ত রোগ দমনের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটে বিরূপ আবহাওয়ায় আলু ক্ষেত নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের। বারবার কীটনাশক স্প্রে করেও শঙ্কা কাটছে না তাদের। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, আবহাওয়া ভালো হয়ে গেলে ফসল নিয়ে শঙ্কা কেটে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৭ হাজার ৯১৭ হেক্টর।

জেলার কৃষকরা জানান, আলু গাছ রক্ষায় তারা সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করছেন। বারবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। কিন্তু কুয়াশা ও বৃষ্টির কারণে গাছ পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে। ফলে পরের দিন আবারও স্প্রে করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে কেউ কেউ তিন থেকে চার বার ছত্রাকনাশক স্প্রে করেছেন জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, শীতের কারণে আলু ক্ষেতের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা শঙ্কিত হলেও এখন পর্যন্ত ফসল ভালো আছে। বৈরী এই আবহাওয়ার মধ্যে কৃষকদের করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি নানা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ায় আলুসহ উঠতি সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে নীলফামারী জেলা কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ‘লেট ব্লাইট’ ও ‘আরলি ব্লাইট’ রোগে আক্রান্ত হয়ে আলু গাছের পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। মরে যাচ্ছে আলুর কচি পাতা ও ডগা।

সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পাপিয়া বেগম বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের ক্ষেতের রোগ নিরাময়ের জন্য নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়াও ম্যানকোজেব ও কার্বনডাজিম নামের ওষুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে শীত ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভালো ফল পাওয়া যায়।