সবুজে সেজেছে সাজুনীর স্বপ্ন

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

সবুজে সেজেছে সাজুনীর স্বপ্ন

তানজেরুল ইসলাম, গাজীপুর ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
সবুজে সেজেছে সাজুনীর স্বপ্ন

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রাম। সবুজে ঘেরা গ্রামটিতে স্বামী, সন্তানদের নিয়ে সাজেদা বেগমের বসবাস। এলাকায় তিনি সাজুনী বেগম নামে পরিচিত। গত দুই যুগ আগে তিনি বন বিভাগের উপকারভোগী সদস্য হয়েছেন।

সাজেদা বেগম জানান, গত ২৪ বছর আগে সৃজিত বাগান থেকে অর্জিত টাকা তিনি গৃহনির্মাণ কাজে ব্যয় করেছেন। দ্বিতীয় আবর্তের বাগান থেকে লভ্যাংশের তিন লাখ টাকা তিনি শিগগিরই পাবেন। ওই টাকায় দুটি গাভী কিনতে চাচ্ছেন। পাশাপাশি অবশিষ্ট টাকা বাড়ি মেরামত কাজে ব্যয় করবেন।

বন বিভাগ থেকে পাওয়া এক একরের বাগানটি তার সন্তানদের ভবিষ্যত বলে তিনি মনে করছেন। একই এলাকায় জরাজীর্ণ একটি টিনসেডের বাড়িতে স্বামী, সন্তানদের নিয়ে আয়েশা বেগমের বসবাস। চলতি বছর তিনিও সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকারভোগী সদস্য হয়েছেন। এক একরের ওই বাগানটিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপিত হয়েছে। পাশাপাশি ওই বাগানে তিনি সবজি চাষ করছেন। এতে তার বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, শিরিরচালা এলাকার সেলিনা। পেশায় তিনি একজন গার্মেন্ট শ্রমিক। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে সেলিনার সংগ্রামী জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তবে ওই সংগ্রামী বিধবা নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে বন বিভাগ। চলতি বছর সেলিনাকে সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকারভোগী সদস্য করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীন গাজীপুর ভাওয়াল রেঞ্জ। রেঞ্জটির ভবানীপুর বিটে সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকারভোগী সদস্য সংখ্যা দেড় শতাধিক। পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত উপকারভোগী সদস্যদের জন্য প্রতিটি গ্রুপে ৯ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির উদ্যোগে বাগান পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা ছাড়াও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকারভোগী সদস্যদের উদ্ভুদ্ধ করছেন। পাশাপাশি সৃজিত বাগান সংক্রান্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে ব্যবস্থাও নিচ্ছেন।

ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা, ফরেষ্টার খন্দকার আরিফুল ইসলাম জানান, সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে কাঠ জাতীয় গাছের পাশাপাশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি জাতের চারাগাছ রোপিত হচ্ছে। এ ছাড়া ভাওয়াল রেঞ্জে বিপুল সংখ্যক বট চারা রোপিত হয়েছে। শালবনের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মনেয়া বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ বাছাই করে (এএনআর) গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচর্যা করা হচ্ছে।