যশোরে বিষমুক্ত সবজি চাষের রেকর্ড

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৭ কার্তিক ১৪২৬

যশোরে বিষমুক্ত সবজি চাষের রেকর্ড

বিএম ফারুক, যশোর ৩:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৯

print
যশোরে বিষমুক্ত সবজি চাষের রেকর্ড

যশোরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বালাইনাশক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন চাষিরা। তবে বিষমুক্ত বা নিরাপদ সবজি বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজার গড়ে না উঠায় কৃষক তার উৎপাদিত সবজির কাঙ্খিত দাম থেকে যেমন বঞ্চিত। অন্যদিকে বাজারে গিয়ে কোনটি নিরাপদ বা কোনটি অনিরাপদ সবজি তা যাচাই করতে পারছেন না ক্রেতারা।

কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, ২০০০ সালের দিকে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগ এক অভিনব পরীক্ষা শুরু করে যশোরের বাঘারপাড়ার গাইদঘাট অঞ্চলে। ওই অঞ্চলের কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত প্রয়াত কৃষক আইয়ুব হোসেনের সহযোগিতায় বেগুন ও করোলার ক্ষেতে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা নিধনে কীটনাশকের বদলে ফেরোমন সেক্স ট্র্যাপ ব্যবহার শুরু হয়।

কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমনে এ ধরনের পদ্ধতির সে সময়ে যশোরে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর থেকে কৃষি বিভাগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কৃষি সংস্থার উদ্যোগে যশোরাঞ্চলে বালাইনাশক পদ্ধতি সবজি উৎপাদনে কৃষকরা ঝুঁকে পড়েন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা বছর জুড়ে প্রায় ২২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতেই পোকা দমনে ফেরোমন সেক্স ট্রাপ, আলোর ফাঁদ, ট্রাইকো কম্পোজ, ট্রাইকো লিসেট ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ ও বিভিন্ন এনজিওর পরামর্শে কৃষক নিরাপদ সবজি উৎপাদন করলেও কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুষান্ত কুমার তরফদার জানান, যশোরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বালাইনাশক পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এটি এ অঞ্চলের কৃষক ও কৃষিবিভাগের বড় ধরনের সাফল্য। তবে নির্দিষ্ট বাজার না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি মানভেদে বিক্রি করতে পারছেন না।