কৃষকদের পুনর্বাসনে ১২০ কোটি টাকা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

কৃষকদের পুনর্বাসনে ১২০ কোটি টাকা

বন্যায় ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

ডেস্ক রিপোর্ট ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৯

print
কৃষকদের পুনর্বাসনে ১২০ কোটি টাকা

দেশে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১২০ কোটি টাকার বীজ ও সার সহায়তা দেবে সরকার। পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় মৌসুমি ফসল চাষাবাদের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের এই সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য থাকছে নগদ অর্থ সহায়তাও।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সনৎ কুমার সাহার বরাত দিয়ে ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বন্যায় সারা দেশে ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের এই ক্ষতি পোষাতে পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দরিদ্র কৃষকদের ১২০ কোটি টাকার বীজ ও সার দেওয়া হবে। মৌসুমভিত্তিক আউশ, আমন, বোরো, সরিষা, সূর্যমুখী, ভুট্টা, তিলসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য বীজ, সার ও নগদ অর্থ দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে।

এবারের বন্যা নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘২০১৯-এর মৌসুমি বন্যা : যৌথ চাহিদার সম্ভাব্যতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস পর আগস্টের শুরুতে সব নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নামে। বন্যায় দেশের ৬ হাজার ৮৬৭টি গ্রামের ৭৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে সাড়ে তিন লাখ হতদরিদ্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮টি জেলায় বন্যার পানি উঠলেও আট জেলায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে প্রায় তিন লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়। আর নদীভাঙনের ফলে এক হাজার ৬৫৪টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল বলেন, এবার বন্যার্তদের ৩০ হাজার মেট্রিকটন চাল এবং নগদ ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীনে থাকা অবকাঠামো মেরামত, সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পর ঠিক সময়ে কৃষকদের বিভিন্ন ফসলের চারা সরবরাহ করতে ৭৫ একর জমিতে সরকারিভাবে বীজতলা করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের নিজস্ব জমিতে বীজ ও সার দিয়ে বীজতলা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে আড়াই হাজার ভাসমান বীজতলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটউট বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষকদের করণীয় নিয়ে সম্প্রতি একগুচ্ছ পরামর্শ রেখেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কচুরিপানা ও মাটি দিয়ে কলার ভেলায় বীজতলা তৈরি, স্বল্প জীবনকালীন জাতের ধান যেমন- ব্রি ধান ৩৩, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান ৭১ এবং ব্রি ধান ৭৫ আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপণ করা যাবে।

এছাড়া ব্রি উদ্ভাবিত আলোক সংবেদনশীল উফশী জাত যেমন- ব্রিআর ৫, বিআর ২২, বিআর ২৩, ব্রি ধান ৩৪, ব্রি ধান ৪৬ জাতগুলো ১৫ আগস্টের মধ্যে বীজতলায় চারা উৎপাদন করে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বপন করা যাবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, বন্যার সময় আমন ধানের বীজ মাঠে থাকায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ধানের বীজতলা করে দেওয়া হয়েছে। সবজি যা নষ্ট হয়েছে তানিয়ে কিছু করার নেই। তবে রবি মৌসুমে কৃষকদের আমরা পুষিয়ে দেব। মাষকালাই চাষের জন্য কৃষকদের বীজ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ও সবজির বীজও দেওয়া হবে।

এবারের বন্যায় কৃষিতে যতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা পাওয়ার পর কৃষকরা তা পুষিয়ে ফেলতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন কৃষিসচিব।