কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি ৩:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

print
কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ

এবারে বোরো ধানের দাম কম পেয়েছে কৃষক। যে কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন রোপন ও পাট চাষে অধিক মনযোগ দেয় তারা। পাটের আবাদ ও আমনের বীজতলায় কৃষকরা অধিক পরিচর্যায় ব্যস্থ ছিলো। পাট প্রায় পরিপক্ক হয়ে ওঠার উপক্রম। আমনের চারাও বেশ বড় হয়ে উঠছিলো। এমন সময়ে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে যায় এসব কৃষকের স্বপ্ন। ফসলের ক্ষতি ছাড়াও ঘরের খাবারও রক্ষা করতে না পারায় সামনে কি খেয়ে বাঁচবে, এ চিন্তায় এখন মাথায় আকাশ ভেঙে পরার উপক্রম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।

উপজেলার পশ্চিম বাটি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, পাঁচ শতাংশ জমিতে এবার আমন বীজ বপন করেছিলেন। ১২ দিন ধরে ওই কৃষকের পরিপক্ক চারাগাছ পানির নিচে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষক হবিবর রহমানের ৬ শতাংশ, আনোয়ারের ১৫ শতাংশ, তফেজ্জলের ৮ শতাংশ ও আমজাদ হোসেনের ১০ শতাংশসহ অসংখ্য কৃষকের আমন বীজতলা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলেও চারার অভাবে আমন রোপন অসম্ভব হবে জানালেন কৃষকরা।

পদুমশহর, কচুয়া ও বোনারপাড়া এলাকার কৃষকরা জানান, বোরোর দাম কম পাওয়ায় এবার আমন ধান রোপনে অধিক মনযোগী হন তারা। বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন রোপন নিয়ে এখন দু:চিন্তায় কৃষকরা। এছাড়াও উপজেলার ১০ ইউনিয়নের অন্তত তিনশ কৃষকের পাটের জমি তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গাড়ামাড়া গ্রামের কৃষক মনজুর জানান, চার বিঘা জমির পরিপক্ক পাটক্ষেত ১২ দিন ধরে পানির নিচে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ওই তার ক্ষতি প্রায় ৯০ হাজার টাকা।

একই কথা জানান, গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষকরা। এ গ্রামের কৃষক রঞ্জু মিয়ার এক বিঘা ও স্বাধীন মিয়ার দেড় বিঘা জমির পাটক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান, পাট কেটে তোলার সময়ে বন্যার পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার বন্যায় ৯৫০ হেক্টর জমির পাট, ৫০০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ২৯০ হেক্টর জমির আউস ধান, ৩০০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ও ১০ হেক্টর জমির অন্যন্য ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি আফিসার একেএম মুবিনুজ্জামান চৌধুরি জানান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের খোঁজ খবর নেওয়া ও তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। এছাড়াও তাদের পরামর্শ প্রদানে কৃষি বিভাগের জনবল কাজ করে যাচ্ছে।