মহিষ পালনে বাংলাদেশে অবহেলা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

মহিষ পালনে বাংলাদেশে অবহেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২১, ২০১৯

print
মহিষ পালনে বাংলাদেশে অবহেলা

মহিষ পালনে অবহেলা করছে বাংলাদেশ। আর সেই সুযোগটি নিচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো। এক সময় বাংলাদেশে ৪২ লাখের মতো মহিষ থাকলেও বর্তমানে তা ছয় লাখে ঠেকেছে। অথচ গরুর চেয়ে মহিষের দুধ ও মাংস সুস্বাদু এবং বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু প্রচারণা না থাকায় আমরা কেউ মহিষের মাংস খেতে চাই না।

বাংলাদেশে তরল দুধের মাত্র চার ভাগ আসে মহিষ থেকে। অথচ ভারতে তরল দুধের ৫৬ ভাগ আসে মহিষ থেকে। নেপালে আসে ৭০ ভাগ এবং পাকিস্তানে আসে ৬৩ ভাগ।

রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তারা এ তথ্য জানান।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসসফ) জিএম ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের পিডি বেলাল হোসেন।

বক্তারা বলেন, ব্যাপকভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মহিষের উৎপাদন করে দেশ-জাতির আমিষের চাহিদা পূরণ করছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। অথচ আমাদের দেশে মহিষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তারা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মহিষের জাত উন্নয়ন, ব্যাপক উৎপাদন ও পরিচর্যার ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, মহিষের সংখ্যা হ্রাস এবং বিনাচিকিৎসায় এদের ব্যাপক মড়কের ব্যাপারে ভেটেনারিয়ানদের সক্রিয় হতে হবে।

তিনি এ জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ বেসরকারি খামারি ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মহিষের দুধ ও গোস্তের খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের রুচির ক্ষেত্রে যেমন মানসিকতার পরিবর্তন দরকার তেমনই বাজারে মহিষের গোস্তকে গরুর গোস্ত বলে চালানোর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি হীরেশ রঞ্জন ভৌমিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম মণ্ডল, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসি উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নাথুরাম সরকার, সেনাবাহিনী কর্মকর্তা আব্দুল বাকী, মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি ডা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।