দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই ধানের

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই ধানের

ড. আব্দুর রাজ্জাক

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১৭ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৯

print
দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই ধানের

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও এই মুহূর্তে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে দাম বাড়ানোর তেমন সুযোগ নেই। তবে অন্য কোনো উপায় সমস্যা সমাধান করা যায় কিনা সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা চলছে। শনিবার কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন : কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সারা দেশ থেকে চাষিদের নির্বাচন করা কঠিন বলেই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কম হলেও দ্রুত এর সমাধান কঠিন। তবে, এ সংকট নিরসনে চাল রপ্তানির চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

ধানের দাম কমায়, ধানক্ষেতে আগুন লাগানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তা ‘খারাপ চোখে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটা খারাপ কিছু না, এ রকম প্রতিবাদ অনেক দেশে হয়। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে আমাদের দেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত দেশে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। রপ্তানি করার পর হঠাৎ কোনো বন্যায় যদি ফসলের ক্ষতি হয় তখন আবার সমস্যায় পড়ব। তারপরও আমরা কৃষকদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে রপ্তানি করলেও ভারত, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষকদের লাভবান করতে আমাদের উৎপাদিত চালের উদ্বৃত থেকে অন্য দেশে রপ্তানি করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে। এ বিষয়ে বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো, চাল রপ্তানি করব কি করব না।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. মো. নুরুল ইসলাম।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষি খাত। তবে নানা সমস্যা থাকার পরও বাংলাদেশে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হচ্ছে। সারা দেশ থেকে চাষিদের নির্বাচন করা কঠিন বলেই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই কৃষিকে আধুনিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ- এ তিনটির মাধ্যমে এখন যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সে সমস্যার সমাধান অবশ্যই করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধান ও গমসহ বার্ষিক উৎপাদন সাড়ে তিন কোটি টন। সরকারের গুদামজাতকরণের ক্ষমতা রয়েছে ২০-২২ লাখ টন। তার মধ্যে গত বছর কেনা ১০ লাখ টনের বেশি কেনা ফসল রয়ে গেছে।

সুতরাং যতদিন পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে সব ধান চাল কিনে মজুদ করা সম্ভব না হয়, ততদিন কৃষককে উপযুক্ত দাম দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি জাপান এবং কোরিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেসব দেশে সরকার সব ধান-চাল কৃষকের কাছ থেকে কিনে নেয় বলেই বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে।