কৃষি ভর্তুকির ৯০ ভাগই সারে

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

কৃষি ভর্তুকির ৯০ ভাগই সারে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, মে ০৩, ২০১৯

print
কৃষি ভর্তুকির ৯০ ভাগই সারে

দেশে প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে। বাজেটে খুব একটা বাড়ানো হচ্ছে না কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ। চলতি বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে (২০১৮-১৯ অর্থবছর) কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ ৯ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৬ হাজার কোটি টাকা সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ দেয় সরকার। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই অঙ্কেই ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষি ভর্তুকি। শঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে, এ সহায়তার প্রায় ৯০ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে শুধু সার আমদানিতে। ফলে পিছিয়ে পড়ছে কৃষির বহুমুখী উন্নয়ন। বিগত ১০ বছরের কৃষি সহায়তার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে এমন চিত্র। দেশে ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত কৃষি খাতে মোট ৬৫ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। যার মধ্যে শুধু সার খাতেই ৫৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এ বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু বকর সিদ্দিক খোলা কাগজকে বলেন, দেশে এখন বছরে ৫০ লাখ টনেরও বেশি সারের প্রয়োজন হচ্ছে। যার আমদানিতে শুধু সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। আর বছরে কৃষি ভর্তুকি ৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে সিংহভাগই সারে ব্যয় করতে হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সার আমদানিতে ভর্তুকির সিংহভাগ ব্যয়ের কারণে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ ও সেচ সুবিধা, কৃষি উপকরণ সহায়তা, কৃষক পুনর্বাসন, শস্য বহুমুখীকরণ, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, স্বল্প সুদে কৃষিঋণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ ও বর্গাচাষিদের ঋণ সুবিধার মতো অন্য কৃষি বহুমুখী কার্যক্রমগুলো পিছিয়ে পড়ছে। এ খাতে ভর্তুকির অর্থ যথার্থ ব্যয় সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য কৃষি ভর্তুকি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এদিকে দেশে প্রতিবছর সারের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছর (২০১৮-১৯) দেশে সারের চাহিদা ছিল ৫৬ লাখ এক হাজার টন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় সাত লাখ ৫১ হাজার টন বেশি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে ৩৯ লাখ ছয় হাজার টন সারের চাহিদা ছিল। যা পরবর্তীতে বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৬৬ হাজার টন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৪ লাখ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টনে দাঁড়ায়।

তথ্য বলছে, এ বছর সারা দেশে যে পরিমাণ সার ব্যবহার হয়েছে তার মধ্যে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া, ৭ লাখ টন টিএসপি, ৯ লাখ টন ডিএপি, সাড়ে ৮ লাখ টন এমওপি, ৩০ হাজার টন এমএপি, ৫০ হাজার টন এনকেপিএস, তিন লাখ টন জিপসাম, এক লাখ টন জিংক সালফেট, ১০ হাজার টন অ্যামোনিয়াম সালফেট, ৮০ হাজার টন ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও ৪০ হাজার টন বোরন। সার্বিক এ চাহিদার মধ্যে কিছুটা দেশে উৎপাদনের পাশাপাশি বাকিটা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যেখানে ভর্তুকির সিংহভাগ ব্যয় হয়েছে।

জানা গেছে, এ বছর ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সারের চাহিদার মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১০ লাখ টন উৎপাদনে সক্ষম ছিল। বাকি চাহিদা পূরণ হচ্ছে অন্য দেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে। একইভাবে এ বছর আড়াই লাখ টন টিএসপি, চার লাখ টন ডিএপি, সাড়ে পাঁচ লাখ টন এমওপিসহ আরও প্রচুর সার আমদানি করতে হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) জন্য সারের চাহিদা নিরূপণ শেষ করেছে মন্ত্রণালয়। তাতে ওই বছর সাড়ে ২৬ লাখ টন ইউরিয়া, সাড়ে ৭ লাখ টন টিএসপি, ৯ লাখ টন ডিএপি, সাড়ে ৮ লাখ টন এমওপি, ৫০ হাজার টন এমএপি, ৭০ হাজার টন এনপিকেএস, ৪ লাখ টন জিপসাম, ১ লাখ ৩৩ হাজার টন জিংক সালফেট, ১০ হাজার টন অ্যামোনিয়া সালফেট, ৮০ হাজার টন ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও ৪১ হাজার টন বোরন সারের প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া অকৃষি খাতে সারের ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। শিল্পকারখানাসহ নানা কাজে এখন রাসায়নিক সার ব্যবহার হয়। গবাদিপশু মোটাতাজা করতে সার ব্যবহার হচ্ছে। আগে মানুষ শাকসবজি ও ফল উৎপাদনে সেভাবে সার ব্যবহার না করলেও এখন এসব ক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক চাহিদায়। এতে খরচ বাড়ছে ভর্তুকির।