পাঙ্গাশের আচার উদ্ভাবন

ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বাকৃবি গবেষকদের চমক

পাঙ্গাশের আচার উদ্ভাবন

বাকৃবি প্রতিনিধি ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৯

print
পাঙ্গাশের আচার উদ্ভাবন

পাঙ্গাশ মাছ থেকে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন আচার ও পাউডার উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তার গবেষণা দল।

তাদের দাবি, পাঙ্গাশ পাউডার দিয়ে মাছের ভর্তা, স্যুপ, নুডলস, খিচুড়িসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি করা যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘মিঠা পানির মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি প্রশমন ও মূল্য সংযোজন (টিএফ- ৩৮ এফ/১৯)’ প্রকল্পের আয়তায় গবেষণা কর্মটি পরিচালিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম বলেন, পাঙ্গাশ মাছ দামে সস্তা ও সহজলভ্য। এ মাছের চর্বি ও আমিষকে সম্পূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ উপযোগী করে পাঙ্গাশ পাউডার ও শুকনো আচার তৈরি করা হয়েছে। পাঙ্গাশ পাউডার দিয়ে মাছের ভর্তা, স্যুপ, নুডলস, খিচুড়িসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি করা যাবে।

এছাড়াও দেড় টাকা মূল্যের ৩ গ্রাম পাউডার দিয়ে ২৫০ মিলি পরিমাণ পাঙ্গাশ স্যুপ অথবা ৮০ গ্রাম ওজনের ১ বাটি নুডলস তৈরি করা সম্ভব হবে। পাঙ্গাশের পাউডারে ৪৫ ভাগ আমিষ, ৩২ ভাগ চর্বি, ১ ভাগ মিনারেল ও ৯ ভাগ ফাইবার পাওয়া গেছে। ১ কেজি আকারের পাঙ্গাশ মাছ থেকে প্রায় ২০০-২৫০ গ্রাম পাউডার তৈরি করা যাবে।

পাঙ্গাশের আচার সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, আচারটি শুকনো ও মচমচে হওয়ায় প্রায় এক বছরের অধিক সময় সংরক্ষণ করা যাবে। এতে পুষ্টিমান পাওয়া গেছে শতকরা ৩৭ ভাগ আমিষ, ২৮ ভাগ স্নেহ, ১৬ ভাগ মিনারেল ও ১১ ভাগ ফাইবার। এক কেজি পাঙ্গাশ থেকে ৩৫০ গ্রাম পাঙ্গাশ আচার পাওয়া যায় যা উৎপাদন করতে সর্বমোট ১২০-১৫০ টাকা খরচ পড়ে। ৩৫০ গ্রাম আচার ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রয় করা সম্ভব।

ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তার গবেষক দল দীর্ঘ দুই বছর গবেষণা করে পাঙ্গাশের পণ্য দুটি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। দ্রুতই পাঙ্গাশের ওই পণ্য দুটি বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।