দাদনের ভারে দিশেহারা তরমুজ চাষিরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

দাদনের ভারে দিশেহারা তরমুজ চাষিরা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৫, ২০১৯

print
দাদনের ভারে দিশেহারা তরমুজ চাষিরা

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় চাহিদা থাকলেও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মৌসুমি ফল তরমুজের আশানুরূপ ফলন উৎপাদন হয়নি। ফলে মহাজনের দাদন কিংবা এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ হাজার হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দফার বৃষ্টিপাতে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমির তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ৬ হাজার ৩০০ হেক্টরে ৩০ মেট্রিক টন হারে এক লাখ ৮৯ হাজার টন ফলন উৎপাদন হয়েছে।

আড়তদাররা জানান, এ মুহূর্তে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী, রপ্তানি হচ্ছে না। তাই ক্রয়-বিক্রয় চড়া দামে হচ্ছে। বরগুনার আমতলী থেকে আসা পাইকার চাঁন মিয়া বলেন, ‘গত বছরগুলোতে আমরা ১৫-২০ কেজি ওজনের ফল কিনেছি। কিন্তু এবার ৮-১০ কেজি ওজনের ওপর ফল নেই। বৃষ্টিতে গাছের ক্ষতি হওয়ায় ফল বড় হয়নি।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এবারও উপজেলার খালগোড়া, কোড়ালিয়া, বাহেরচর, কাউখালী ও কাজির হাওলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী তরমুজ ঘাট গড়ে উঠেছে। কিন্তু গত বছরগুলোর মতো ঘাটগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আব্দুল মান্নান জানান, বৃষ্টির পরও যাদের ফলন টিকে আছে, তারা লাভবান হবে। যাদেরটা নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের লোকসান হবে। এ বৃষ্টিপাতের কারণে আনুমানিক একশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। সিদ্ধান্ত হলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে কি না।