গাছে গাছে আমের গুঁটি, স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাম্পার ফলনের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

গাছে গাছে আমের গুঁটি, স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাম্পার ফলনের

রাজশাহী প্রতিনিধি ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

print
গাছে গাছে আমের গুঁটি, স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাম্পার ফলনের

বৃষ্টির স্পর্শে সতেজ কড়ালি বেড়ে উঠছে দ্রুত। গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের কড়ালি। এখন পর্যন্ত রোগ-বালাইও তেমন দেখা যাচ্ছে না। তাই এবার আম নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন চাষিরা। তারা বলছেন, গাছে যে পরিমাণ আম এসেছে, তার ২০ শতাংশও শেষ পর্যন্ত টিকলে উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়ে ব্যাপক লাভবান হবেন তারা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর রাজশাহীর ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে আমের গুটি ধরেছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ১৩ হাজার ৪২৬ মেট্রিকটন। গত বছর ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে ও এর আগের বছর ১৬ হাজার ৯৬১ হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল। এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আম বাগান থাকায় উৎপাদনেও রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এবার হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৫ দশমিক ৫৮ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি হয়। এতে অনেক ছোট ছোট আমের গুটি ঝরে পড়ে। গাছেও নষ্ট হয় অনেক। পুঠিয়া উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আম বৈরি আবহাওয়ারই ফসল। ঝড়-ঝাপ্টা, শিলাবৃষ্টির ভেতরেই আম বেড়ে ওঠে। এতে ক্ষতি খুব বেশি হবে না। গত রবি ও সোমবারের বৃষ্টি ওই ক্ষতি পুষিয়ে দেবে। বৃষ্টির কারণে আমের গুটিগুলো এখন খুব দ্রুত বেড়ে উঠবে। তাই এ বছর উৎপাদনও ভালো হবে।

ভালো ফলনের আশায় এখন গাছের পরিচর্যার কোনো ত্রুটি রাখছেন না চাষিরাও। মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের গোড়ায় পানি ঢেলেছেন তারা, পাতায় স্প্রে করেছেন কীটনাশক। এখনও কড়ালিতে পতঙ্গের আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।

চাষিরা জানিয়েছেন, বৈশাখের শুরুর দিকেই আম উঠবে বাজারে। তখন থেকেই তাদের আয়ও শুরু হবে।

বাঘা উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের আমচাষি হাফিজুর রহমান বলেন, `এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল, প্রচুর গুটিও ধরেছিল। কিছু গুটি নষ্ট হলেও এখনও গাছে প্রচুর কড়ালি আছে। আমের ভালো ফলন হবে বলেই মনে হচ্ছে। আশা করছি, মৌসুম শেষে চাষিদের মুখে হাসি থাকবে।‘

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম জানান, গাছে এখন যে পরিমাণ আমের কড়ালি দেখা যাচ্ছে, তাতে উৎপাদনে কোনো সমস্যা হবে না। প্রতিটি শীষে যদি একটা করে আম শেষ পর্যন্ত থাকে তবুও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে, চাষিরা লাভবান হবেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, এবার আমের উৎপাদন গতবারের চেয়ে অনেক বাড়বে। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন কোনো পতঙ্গের আক্রমণ না হয় সেজন্য তারা সতর্ক রয়েছেন। মাঠপর্যায়ের চাষিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।