হাওরে ধানে চিটা দিশেহারা কৃষক

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯ | ৬ বৈশাখ ১৪২৬

হাওরে ধানে চিটা দিশেহারা কৃষক

শেখ লুৎফা, মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) ৯:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০২, ২০১৯

print
হাওরে ধানে চিটা দিশেহারা কৃষক

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বোরো ফসলে ধানের ভেতর চাল নেই। এতে এই এলাকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি অফিস বলছে, কোল্ড ইনজুরির কারণে এমনটা হয়েছে। বোরো ফসলের আবাদ যখন শেষ করে কৃষক ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ক্ষেতের ধান যখন পেকে আসছে তখনি কৃষকের জন্য এমন দুঃসংবাদ। ধানে চাল নেই, ধানে চিটা এমন খবরে নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে হবে হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক পরিবারকে।

তেথুলিয়া গ্রামের কৃষক সম্রাট মিয়া জানান, গত বছরে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগেই আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছে হাওরের কৃষকদের জীবনে। এখনো ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে, আশায় ছিলাম ফসল উঠলে ঋণমুক্ত হতে পারব। ধানে চিটার ফলে নতুন করে আবারও সমস্যায় পড়তে হলো।

এদিকে গত সোমবার হাওর ঘুরে দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে বড় হাওর ডিঙ্গাপোতাসহ সব এলাকাতেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ছয় হাজার পাঁচশ হেক্টর জমিতে। ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু কোল্ড ইনজুরির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনেক নিচে নেমে আসবে। তবে আবাদের একাংশে মাঘ মাসের প্রচণ্ড শীতে যখন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রিতে নেমে আসে, তখন যেসব বোরো ফসলের ধান গাছের পেটে থৌর ছিল, ঠাণ্ডায় সেগুলোর চাল ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। এ বছর কৃষক বন্যা আতঙ্কে বিজ রোপণের সময় হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে ক্ষেতে ধান বীজ রোপণ করায় ধান গাছগুলো প্রচণ্ড ঠাণ্ডার সময় থৌর হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তবে আগে তা বোঝা যায়নি, এখন ফসল পাকার সময় ধরা পড়েছে অধিকাংশ ধানে চাল নেই চিটা।