চিরিরবন্দরে ব্রিধান-৫০ চাষে কৃষকের হাসি

ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫

চিরিরবন্দরে ব্রিধান-৫০ চাষে কৃষকের হাসি

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৮

print
চিরিরবন্দরে ব্রিধান-৫০ চাষে কৃষকের হাসি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে নতুন জাতের সুগন্ধী ব্রিধান-৫০ চাষ করে ভালো ফলন অর্জন করায় অধিকাংশ কৃষকদের মাঝে এ ধান চাষে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগামীতে এ ধানের চাষ ব্যাপক হারে হবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে) সুগন্ধী ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। সেই লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত কৃষকদের দুদিনব্যাপী সুগন্ধী ধান চাষের উন্নত পদ্ধতি ও রোগ- পোকা দমনের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ফলে কৃষকরা ধান উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিশেষ করে সুষম সারের ব্যবহার, সিঙ্গিল হিল মেথড, পার্চিং এবং রোগ ও পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে পারেন। যা ওই অঞ্চলের কৃষকরা পূর্বে জানতেন না। তারা শুধুমাত্র সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ধান চাষ-আবাদ করতেন। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।
এ বছর বোরো মৌসুমে উন্নত প্রযুক্তি ও কলাকৌশল ব্যবহার করে প্রায় ২৭ একর জমিতে  ব্রিধান- ৫০ জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। আব্দুলপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, এবার ৩৩ শতক জমিতে ব্রিধান-৫০ চাষ করেছেন। চারা লাইন করে রোপণ করার ফলে চারার পরিমাণ কম লাগার পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি ও রোগ, পোকামাকড় কম হয় ও অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা করতে সহজ হয়। তিনি চলতি বোরো মৌসুমে ব্রিধান ৫০ চাষ করে ২৬ মণ ধান উৎপন্ন করেছেন। যার বাজার মূল্য ১৮ হাজার ২শ টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয়েছে ১০ হাজার ৪শ টাকা। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে ওই জমিতে চাষ করতে তার ব্যয় হতো প্রায় ৮ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হতো ২০ থেকে ২২ মণ যার বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। এতে তার উদ্বৃত্ত লাভ হতো ৬ হাজার ৩শ টাকা।
আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের সুগন্ধী ধান উৎপাদক দলের কৃষক মো. সাইদুর রহমান বলেন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ যেমন কমেছে পাশাপাশি তাদের আয়ও বেড়েছে।
গ্রাম বিকশ কেন্দ্রের সুগন্ধি ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান কৃষিবিদ মো. লিয়াকত আলী জানান, ব্রিধান ৫০ সিঙ্গেল হিল পদ্ধতিতে লাইন করে চারা রোপণ করায় মাজরা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা সহজে দমন করা যায়। ফলে তুলনামূলক ভাবে জমিতে কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ইউরিয়া অপচয় রোধের জন্য এলসিসি ও সেচ পানির অপচয় রোধের জন্য এডাব্লিউডি ব্যবহার করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পরামর্শ ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের পেইস প্রকল্পের আওতায় সুগন্ধী ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্পের সহযোগিতায় কৃষকরা বর্তমানে ধানের ভালো ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় আনন্দিত। এ প্রকল্প চালু থাকলে পরবর্তীতে সুগন্ধী ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি।

 
.