বোরোর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমি

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

বোরোর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমি

নাজমুল হুসাইন ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯

print
বোরোর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমি

বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ পরিমাণ জমিতে ইরি-বোরোর আবাদ করেছেন কৃষকরা যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার থেকেও প্রায় দেড় লাখ হেক্টর বেশি। চলতি মৌসুমে সারা দেশে ৪৮ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হলেও শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৪৯ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে।

সারা দেশে বোরো রোপণ সম্পন্ন হয়েছে গত সপ্তাহে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় ৮৮ শতাংশ জমিতে উফশী জাত, ১১ শতাংশে হাইব্রিড ও বাকি জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো আবাদ করেছেন কৃষকরা। শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে উৎপাদনও শেষ কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

তথ্য বলছে, বিগত ২০১৭ সালে দেশে ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর ও ২০১৮ সালে ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। ওই দুই বছরের উৎপাদন হয়েছিল যথাক্রমে ১ কোটি ৮০ লাখ ও ১ কোটি ৯৫ লাখ টন।
চলতি অর্থবছরে আউশ, আমন ও বোরো মিলে মোট ৩ কোটি ৬৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে সরকার। এর মধ্যে আউশ, আমন ও বোরোর অংশ যথাক্রমে ২৭ লাখ টন, ১ কোটি ৪১ লাখ টন এবং ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। আর ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের আউশ মৌসুমে ২৯ লাখ ২০ হাজার টন ও আমনে ১ কোটি ৪৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও ব্যস্তবায়ন) আলহাজ উদ্দিন আহাম্মেদ খোলা কাগজকে বলেন, চলতি বছরে আউশ-আমনে খুব ভালো উৎপাদন হয়েছে। বোরোর আবাদও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে উৎপাদন অন্য বছরের তুলনায় বেশি হবে।

দেশে প্রতি বছর চালের উৎপাদন সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার থেকে কম হতো। তবে গত বছর থেকে ফলন খুব ভালো হওয়াতে পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টিয়েছে। গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, সরকার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে মোট চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৩ কোটি ৫০ লাখ টন, যার বিপরীতে উৎপাদনের ছিল ৩ কোটি ৪৭ লাখ টন। এর পরের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ এবং উৎপাদনের ছিল ৩ কোটি ৩৮ লাখ। তবে গত অর্থবছর উৎপাদন দীর্ঘসময় পড়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সে বছর (২০১৭-১৮ অর্থবছর) মোট চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ৫৫ লাখ টন, কিন্তু উৎপাদন বেড়ে হয়েছিল ৩ কোটি ৬২ লাখ টন।

দেশের মোট চালের ৫৬ শতাংশ উৎপাদন করে শীর্ষস্থানে রয়েছে বোরো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আমন ও আউশ। তবে অধিক মাত্রায় সেচে খরচ ও ধান বিক্রিতে কম মুনাফার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বোরো উৎপাদনে অগ্রাহ হারিয়ে ফেলেন কৃষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি উন্নয়ন-বিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর এ গবেষণায় দেখা গেছে, ধান বিক্রি করে লোকসান হওয়া ও সেচের খরচ বেড়ে যাওয়া অনেকে বোরো চাষ করছেন না। তার সে জমিতে এখন গম ও ভুট্টা চাষ হচ্ছে। কারণ সে ক্ষেত্রে কৃষক গমে উৎপাদন খরচের চেয়ে ২৪ শতাংশ ও ভুট্টায় ৬০ শতাংশ মুনাফা পাচ্ছেন। আর গবেষণার বছরে বোরোতে লোকসান ছিল ১৮ শতাংশ।