বোরো মৌসুমে সেচ সংকট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

বোরো মৌসুমে সেচ সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

print
বোরো মৌসুমে সেচ সংকট

ধানের উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে কৃষককুল যখন দিশেহারা, তাদের কাছে মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বোরো মৌসুমের তীব্র সেচ সংকট। চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প এলাকায় বোরোধান রোপনের উপযুক্ত সময় পার হয়ে গেলেও পৌঁছেনি সেচের পানি। ফলে প্রকল্পাধীন কয়েক লাখ হেক্টর জমির রোপা বোরো ধান রোপন ও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অথচ, প্রকল্প বহির্ভূত প্রায় ৯০ ভাগ জমিতে ইতোমধ্যে ধানের চারা রোপনের কাজ শেষ হয়েছে।

তবে জিকে সেচ প্রকল্প কর্র্তপক্ষ বলছেন, মাঠ পর্যায় থেকে বোর্ডের সম্প্রসারণ কর্মীরা বোরো মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহ দেওয়ার জন্য কোন চাহিদাপত্র দেননি বিধায় এবার তারা ঝিনাইদহে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন।

ঝিনাইদহ পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের ঝিনাইদহ এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন জানান, মাঠে পানি সেচ দেওয়ার জন্য বোর্ডের সম্প্রসারণ বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তারা সেচের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। চলতি বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় পানির চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও ঝিনাইদহ জেলার জন্য বোর্ডের সম্প্রসারণ বিভাগাগের পক্ষ থেকে কোন চাহিদাপত্র পাওয়া যায়নি বিধায় বোরো মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিএম আবাদুর রউফ জানান, জেলায় প্রায় ৯৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চষ করা হচ্ছে। প্রতিটি কৃষকের সেচের পানি পাওয়া না পওয়ার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তাদের কারণে কৃষকদের ক্ষতি হলে দায়-দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। দেরিতে চারা রোপনের ফলে বীজতলায় চারা বয়স্ক হওয়ার কারণে অপরিণত বয়সে ধানগাছে শীষ দেখা দেয়, উৎপাদন খরচ বাড়ে, আবার ফলনও ফলন কমে যায়।