হাওরে মাছের আকাল

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

শুঁটকি উৎপাদন কমেছে অর্ধেক

হাওরে মাছের আকাল

কাজল সরকার, হবিগঞ্জ ১০:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৬, ২০১৯

print
হাওরে মাছের আকাল

একসময় মৎসভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল হবিগঞ্জ। এখানে রয়েছে বিশাল বিশাল হাওর। আর এসব হাওরে ধরা পড়ত প্রচুর পরিমাণে দেশীয় মাছ। কিন্তু প্রতিনিয়ত জলাশয় কমে আসার কারণে এখন আর আগের মতো হাওরে মাছ পাওয়া যায় না। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশিয় মাছ না পাওয়ার কারণে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর শুটকির উৎপাদন কমেছে প্রায় অর্ধেক।

অন্যদিকে, কাঁচা মাছের চেয়ে শুঁটকির দাম কম, পুঁজির অভাব ও যতেষ্ট পরিমাণে সরকারি ঋণ না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শুঁটকি উৎপাদনকারীদে লোকসানের পরিমাণ। একের পর এক লোকসানের মুখে তারা দিতে পারছেন না শ্রমিকদের বেতন। ফলে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকটও। সেইসঙ্গে সরকারিভাবে পরিমাণ মত ঋণ না পাওয়ার কারণে মহাজনদের কাছ থেকে অধিক সুদের ঋণ এনে শুঁটকি উৎপাদন করায় লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে কয়েকগুণ।
বর্ষার শেষে হবিগঞ্জে পুরোদমে শুরু হয় শুঁটকি উৎপাদন। প্রতি বছরই দেশের চাহিদা মিটিয়ে জেলা থেকে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। জেলার বানিয়াচং, আজমিরিগঞ্জ, নবীগঞ্জ, লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত রয়েছেন। এ বছর শুঁটকি উৎপাদনকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। প্রতিনিয়ত জলাশয় কমে আসার কারণে এখন আর আগের মতো হাওরে মাছ পাওয়া যায় না। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশীয় মাছ না পাওয়ার কারণে অন্য বছরের তুলনায় শুঁটকির উৎপাদন কমেছে প্রায় অর্ধেক।
জেলা মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর হবিগঞ্জে জেলায় ১০০ টন শুঁটকি উৎপান হয়েছিল। আর এ বছর উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক কমে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৬৬ টনে।
তবে শুঁটকি উৎপাদনকারীদের লোকসানের পরিমাণ বাড়িয়েছে ঋণ। সরকারিভাবে পরিমাণ মত ঋণ ও সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে মহাজনদের কাছ থেকে অধিক সুদের ঋণ এনে শুঁটকি উৎপাদন করছেন অনেকে। ফলে প্রতি মাসেই মহানজনকে দিতে হচ্ছে অধিক হারে সুদ।
আজমিরীগঞ্জের শুঁটকি ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আগের তুলনায় দিন দিন নদ-নদী কমে আসছে। সেইসঙ্গে হাওরে মাছও আগের মতো পাওয়া যায় না। যার ফলে শুঁটকি তৈরি করতে আমাদের অসুবিধা হচ্ছে।’
বানিয়াচং উপজেলা ভাটিপাড়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী রাজেন্দ্র দাস বলেন, ‘মাছ কম পাওয়ায় বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সেই সাথে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শুঁটকির দাম বাড়েনি। বাপ-দাদার ব্যবসা ছাড়তে পারি না, তাই লাভ লোকসান নিয়েই কোনো রকমে আছি। আবার মহাজনের কাছ থেকে সুদে ঋণ আনার কারণে আমাদের লোকসান আরও বেশি বাড়ে।’
তবে এ বছর শুঁটকি উৎপাদনের জন্য ৭০টি প্রশিক্ষণ দেরয়া হয়েছে। তাছাড়া নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও উৎপাদকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. শাহজাদা খায়রুল। তিনি বলেন, ‘নিয়মিত মাঠ পরিচর্যা করা হচ্ছে। তাছাড়া, শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলাশয় কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে হাওরে দেশী মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। যার ফলে আগের তুলনায় শুঁটকির উৎপাদন কমেছে।’