গ্রামীন কৃষিতে ‘আলোক ফাঁদ’

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | ৫ মাঘ ১৪২৫

গ্রামীন কৃষিতে ‘আলোক ফাঁদ’

খোলা কাগজ ডেস্ক ৪:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০১, ২০১৯

print
গ্রামীন কৃষিতে ‘আলোক ফাঁদ’

ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমনে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল এবং পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর বিকল্প হিসেবে আলোর ফাঁদ বেশ কার্যকর। এর মাধ্যমে ক্ষেতের জন্য উপকারী পোকাও শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতি দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রোপা আমনের পাশাপাশি সবজি ক্ষেতের পোকা ধ্বংসে আলোর ফাঁদ ব্যবহার হচ্ছে দেশজুড়ে। 

বাংলাদেশের প্রান্তিক খেত-খামারে পোকা দমনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘আলোক ফাঁদ’। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন খরচ বাঁচে, অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা পায় পরিবেশ। এছাড়াও এই পদ্ধতিতে কেবল ক্ষতিকর পোকাই নিধন হচ্ছে, বেঁচে যাচ্ছে উপকারী পোকাগুলো।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম একটি আধুনিক ধারণা। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক ছাড়া অন্যান্য পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে আলোর ফাঁদের মাধ্যমে অনেক পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। আলোর ফাঁদ প্রকৃত অর্থে ফসলে পোকার উপস্থিতি যাচাই বা মনিটরিংয়ের একটি যন্ত্রবিশেষ। কিন্তু এটা দিয়ে শুধু পোকার উপস্থিতি যাচাই না করে ক্ষেতের পাশে নিয়মিতভাবে পেতে রেখে অনেক পোকা আলোয় আকৃষ্ট করে মারা যায়।

প্রান্তিক পর্যায়ের চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর তাদের ফসলের খেতের পোকা দমনে কীটনাশকের বাড়তি ব্যয়ে হাঁপিয়ে ওঠে। তবে ‘আলোক ফাঁদ’ পদ্ধতিতে সহজেই ফসলের খেত পোকামুক্ত হয়। এতে যে কেবলই অর্থ সাশ্রয় হয়েছে তাই নয়, কীটনাশকের বিষে আক্রান্তর ভয় থেকেও রক্ষা পেয়েছেন। এরপরও যদি ফসল হানিকর পোকা রয়ে যায় তখন কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে পোকা নিরুপণ করে নির্দিষ্ট মাত্রার কীটনাশক ব্যবহার করলে বাকি থাকা পোকা শেষ হয়ে যায়। এতে কৃষকের খরচ কমে গেছে। সেই সাথে পরিবেশও দূষণমুক্ত থাকছে।

সাধারনত জমির পাশেই একটি পাত্রে পানির মধ্যে কেরোসিন ঢেলে অথবা সাবানের ফেনা তৈরি করে তার এক ফিট উপরে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পোকা-মাকড় আলোর কাছে এসেই পানিতে পড়ে আর উঠতে পারে না। মরে যাওয়া বা পানিতে পড়া পোকা-মাকড় দেখেই বোঝা যায় জমিতে কি ধরনের পোকা আক্রমন করেছে। সে অনুযায়ী কৃষকদেরকে পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ।’