ফুলের ভালোবাসায় শিক্ষক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ফুলের ভালোবাসায় শিক্ষক

রিপন দাস, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)
🕐 ৩:২৬ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২২

ফুলের ভালোবাসায় শিক্ষক

প্রকৃতির বিস্ময় ফুল শুধুমাত্র তার রূপ দিয়ে মুগ্ধ করে না, সেই সঙ্গে আমাদের দেয় অনাবিল মানসিক প্রশান্তি। ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ হয়তো পাওয়া যাবে না কোথাও। কবির ভাষায় 'ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে মরুভূমিতেও ফুল ফোটানো যায়'। এ বিখ্যাত উক্তিটির বাস্তবতাও পাওয়া গেল মৌলভীবাজারে বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের উত্তর বাগীরপার গ্রামে। যেখানে ভালোবাসা আর অতিযত্নে এমন অসম্ভবকেই সম্ভব করা হয়েছে।

ফুলের প্রতি তাঁর অন্যরকম টান। এজন্যই তিনি বাড়ির আঙিনায়, ছাদে ও ফাঁকা জায়গায় লাগিয়েছেন নানা জাতের ফুল। শুধু যে নিজের বাড়িতেই ফুল লাগিয়েছেন তা নয়। লাগিয়েছেন নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পাশাপাশি যারা ফুল ভালোবাসেন তাদেরকেও ফুলের চারা দিচ্ছেন বিনামূল্যে। বর্তমানে তাঁর বাড়ির বাগানে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ৪০০ ফুলের গাছ।

ফুলপ্রেমী এই শিক্ষকের নাম বকুল চন্দ্র নাথ। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারে বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের উত্তর বাগীরপার গ্রামে। তিনি দক্ষিণ বাগীরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত সোমবার (২৩ মে) উপজেলার ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি বিভিন্ন জাতের ফুলের চারা দিয়েছেন। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফুলের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন। আলাপকালে এ প্রতিবেদকের কাছে ফুলের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনিয়েছেন শিক্ষক বকুল চন্দ্র নাথ। তিনি বলেন, ফুল হচ্ছে পবিত্র, সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুল সবাই পছন্দ করেন। যখন আমি ফুল গাছের পরিচর্যা করি, তখন আমার মন ভালো থাকে। এছাড়া ফুল গাছের নানা উপকারিতাও আছে। তিনি জানান, বাড়ির পাশাপাশি নিজের কর্মস্থল দক্ষিণ বাগীরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ফুলের গাছ লাগিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ফুল সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায়, ছাদে ও ফাঁকা জায়গায় লাগিয়েছি। নতুন একটা জায়গা করেছি ফুল গাছ লাগানোর জন্য। বর্তমানে আমার সংগ্রহে আছে গোলাপ, এডোনিয়াম, জবা, রুয়েলিয়া, কসমস, ডালিয়া, রঙ্গন, সানসেট বেল, সন্ধ্যামালতী, নয়নতারা, পাতাবাহারসহ নানা জাতের ফুল। তিনি আরও বলেন, যারা আমার এখানে ফুল দেখতে আসেন, ফুল ভালোবাসেন। তারা ফুল নিতে চাইলে দিই। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ফুলের চারা দিয়েছি বিনামূল্যে। সম্প্রতি উপজেলার ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন জাতের ফুলের চারা দিয়েছি।

মানুষগড়ার কারিগর শিক্ষক বকুল চন্দ্র নাথ সারাজীবন শিক্ষার আলো বিলিয়েছেন। চলতি বছরেই তিনি চাকরি থেকে অবসরে যাবেন। অবসর গেলেই তিনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুলের গাছ লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বকুল চন্দ্র নাথ বলেন, আমার চাকরির শেষ পর্যায়ে। আর কিছুদিন পর অবসরে পাব। অবসর পেলে ইচ্ছা আছে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজের হাতে গিয়ে ফুল গাছ লাগাবো। যদি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আগ্রহী হন, সহযোগিতা করেন তাহলে আমি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুলে ফুলে ভরে দিতে চাই।

বড়লেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, বকুল চন্দ্র নাথ স্যারের ফুলের প্রতি বকুল অন্যরকম টান আছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাড়িতে ও বিদ্যালয়ে ফুলের বাগান করেছেন। উনার বিদ্যালয়ে গিয়ে ফুলের বাগান দেখেছি। সেখানে নানা জাতের ফুল আছে। সম্প্রতি তিনি ১৫১ বিদ্যালয়ে ফুলের চারা প্রদান করেছেন। বকুল স্যার সারা জীবন শিক্ষার আলো বিলিয়েছেন।

এখন উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুলের চারা বিলাতে চাইছেন। আমরা উনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। তাঁকে সহযোগিতার জন্য আমরা প্রস্তুত। তিনি জানান, বকুল স্যারের এমন নান্দনিক উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া ও মূল্যায়ন করা উচিত। এজন্য উপজেলা প্রশাসন তাঁকে যথাযথ সহযোগিতা ও পুরস্কৃত করবেন বলে আমি আশা করি।

 
Electronic Paper