তাড়াশে বৃষ্টির পানিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মে ২০২২ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

জমিতেই পচে যাচ্ছে ধান

তাড়াশে বৃষ্টির পানিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
🕐 ৪:২২ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২২

তাড়াশে বৃষ্টির পানিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ফসলের মাঠগুলোতে পানি জমে পাকা ধান নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে কৃষকদের। বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া ধান পচে চারা বের হচ্ছে কিছু জমিতে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার চাষিরা। ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও এই বৃষ্টিতে মিলছে না শ্রমিক। ফলে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে ধান।

তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২২হাজার ৩১৫ হেক্টর। কিন্ত লক্ষমাত্রার চেয়ে অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ৩৬০ হেক্টর।

সরেজমিনে, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের গুড়পিপুল, আড়ংগাইল, মাধাইনগর ইউনিয়নের ভাদাস, সেরাজপু, মালশিন, গুড়মা, তাড়াশ পৌর এলাকার কোহিত, আসানবাড়ি, বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া, বস্তুলসহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলি মাঠে বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে ধান। অনেক ক্ষেতে ধান পচে গিয়ে চারা বের হয়ে গেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এক বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে শ্রমিক খরচ আরও প্রায় ৭ হাজার টাকা বেড়ে ৯ হাজারে ঠেঁকছে। তাদের অভিযোগ অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ-কালভাটের ,বন্ধ খাল-নালা বন্ধ করে দেয়ার ফলে পানি নিস্কাশন হয়না। তাই বৃষ্টি হলে পানি নিস্কাশনের বাধাগ্রস্থ হয়। এতে করে ফসলি মাঠগুলো ডুবে কৃষকের সর্বনাস হচ্ছে প্রতিবছর।

বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের শিক্ষক মিষ্টার আজাদ বলেন, কৃষকের পাকাধান পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছে, শ্রমিকের সাথে অর্ধেক ভাগেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অবিরাম বৃষ্টি, কৃষকদের সর্বনাশ, কিছু নেতার কপালে আসলো পৌষ মাস। তিনি আরো জানান, পাবনা অঞ্চল থেকে কৃষি শ্রমিকেরা তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গৃহস্থের বাড়ি থেকে ধান কাটতেন কিন্ত এবছর তারা অজ্ঞাত কারনে এখনো অধিকাংশ গৃহস্তের বাড়িতে আসেন নি। তাই শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ার কারনও একটি।

তাড়াশ পৌর সদরের কৃষি শ্রমিক মহির উদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের ধানগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এখন প্রতি বিঘা জমিতে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক বেশি লাগবে। আগে যেখানে এক বিঘা জমিতে খরচ হতো ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা, সেখানে এখন অতিরিক্ত খরচসহ প্রায় ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। শুধু তাই কিছু এলাকায় অর্ধেক জমিওয়ালার অর্ধেক শ্রমিকের তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এখনতো বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করার মতো শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার লুনা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমের শুরু থেকে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীসহ সকল স্তরের কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা দিকনির্দেশনা দিয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করেছেন। মাঠের শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে কৃষকরা একটু সমস্যায় পড়েছেন।

 
Electronic Paper