বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
সংকটে খুলনা বিভাগীয় মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
ইমরুল কায়েস, বাগেরহাট
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 9:15 PM
সংকটে খুলনা বিভাগীয় মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেড় যুগ আগে খুলনা বিভাগে একমাত্র মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট চালু করা হয়। এখন অর্থ সংকট, জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে তা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
 সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে বাগেরহাট শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত  মোরেলগঞ্জের তুলাতলায় বিভাগীয় মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটি চালু করা হয়। ২০০৫ সালে কৃষি, পশুপালন, পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষ বা এই চারটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সালে এসে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আবার বন্ধ হয়ে যায়। আবার ২০১০ সালে  মৌয়াল চাষ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলার আশাশুনি উপজেলার ২০ জন মুন্ডা জনগোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১১ সাল থেকে শুরু হয় কম্পিউটার, বিউটিফিকেশন,  ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং প্রশিক্ষণ। যা এখন চলমান রয়েছে। তবে শুরুর চারটি ট্রেড ও  মৌচাষ প্রকল্প আর চালু করা সম্ভব হয়নি। এসব ট্রেডের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো   রয়েছে। কিন্তু কার্যক্রম নেই। আর যে চারটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে- সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ আবাসিক। কিন্তু ২১টি পদের মধ্যে ১৪টি পদ গত ১৪ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। শূন্য ১৪টি পদের মধ্যে প্রশিক্ষক, হোস্টেল সুপার, হিসাবরক্ষক কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। তাছাড়া হোস্টেলে নিম্নমানের খাবার, ল্যাবে কম্পিউটার, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানির সংকটও রয়েছে।
শিক্ষার্থী মোরশেদা আক্তার জানান, আমরা কম্পিউটারে তিনমাস প্রশিক্ষণের জন্য এসেছি।  একটি কম্পিউটারে এক সঙ্গে চারজন প্রশিক্ষণার্থীকে কাজ শিখতে হয়। কাজের সময় প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। আমাদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ বা জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হলে ভালোভাবে কাজ শিখতে পারতাম।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান জানান, বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রশিক্ষণার্থীরা সব ধরনের সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানের শুরুতে যে উপকরণ ছিল এখনো তা দিয়েই চলছে। চারটি ট্রেডে আটজন প্রশিক্ষকের জায়গায় রয়েছেন মাত্র তিনজন। কম্পিউটার প্রয়োজন ১৫টি। রয়েছে ১২টি। তারর মধ্যে পাঁচটিই নষ্ট। বাকি  সাতটি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। ৭০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া ইনস্টিটিউটে হোস্টেল সুপার নেই। হিসাবরক্ষকসহ অনেক পদই শূন্য। খাওয়া বাবদ একজন শিক্ষার্থীর দিনে ৯০ টাকা বরাদ্দ। এই বাজেট ১৭ বছর আগের। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, শুরু থেকে এখানে এক হাজার ৫৭৪জন নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। খুলনায় এই বিভাগীয় মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট চালু রাখতে হলে বরাদ্দ বাড়ানো, জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, এই প্রতিষ্ঠানের কিছু সমস্যার ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। সংকট নিরসনে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();