বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
রংপুরে বোরোর চারা সংকটে কৃষক
সুশান্ত ভৌমিক, রংপুর
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 4:07 PM
রংপুরে বোরোর চারা সংকটে কৃষক
এবার শীতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় ইরি বোরো মৌসুমের ধানের আবাদ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। কারণ চারা সংকটে ভুগছেন তারা। বিদ্যুত বিভ্রাট তো রয়েছেই। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অথিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন চারা সংকট হবে না। 
সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে শীতে বোরো ধানের বীজ তলা 'শীতরোগ' এ আক্রান্ত হওয়ায় বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের বোরো চাষিরা। ক্ষতিপুষিয়ে তুলতে কৃষকরা নতুন করে বোরো ধানের বীজের চারা রোপন করছেন।
কৃষকরা বলছেন, বীজতলায় পানি ও জৈব সার সঠিকভাবে প্রয়োগ করার পরেও চারাগাছ সাদা ও হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে। বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বোরো ধানের আবাদ নিয়ে শংকায় রয়েছে তারা।
কাউনিয়া উপজেলার চর পল্লীমারি চুতরা গ্রামের  কৃষক আব্দুল মমিন জিহাদি জানান, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে  তিনি ধানের চারা সংকটে পড়বেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করেন। প্রথম দিকে বোরো ধানের চারা ভালো হলেও শীত ও ঠান্ডায় ধানের বীজতলা হলুদ হয়ে মরে যায় । শীত কাটার ওষুধ ব্যবহার করেও তিনি কোন প্রতিকার পায়নি বলে জানান।
একই কথা বলেন, কাউনিয়ার মধুপুর বুড়িরহাট গ্রামের মমিনুল ইসলাম মমিন। তিনি বলেন, শীত ও ঠান্ডার কারণে দেরিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করি। কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে ধানের বীজতলা সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি ধানের চারা সংকটে পড়বেন বলে তিনি জানান।
রংপুর নগরীর ৩২নং ওয়ার্ডের  শরেয়ারতল  এলাকার সিরাজুল ইসলাম সিকাদার  জানান, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে ধানের চারা হাট থেকে কিনতে হবে। প্রতি বছর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপনের পরেও হাটে বিক্রি করি। কিন্তু এ বছর আমাকেই ইরি বোরো ধানের চারা কিনতে হবে। জৈব সার ও  মাটি কনন করে বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করি। কিন্তু অব্যাহত শীত ও ঠান্ডার কারণে বীজতলা চারা গাছ হলুদ ও ফ্যাকাশে  হয়ে মরে যাচ্ছে। 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের তথ্যমতে, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় ৩০ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধানের বীজের চারা রোপন করা হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৪ হাজার ১শ’ ৭৯ হেক্টর । এছাড়াও ইরি বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ ধরা হয়েছে ৫লাখ ১৪হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭২হাজার ১শ’২৫ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ২৮হাজার ৫শ’ ৫০ হেক্টর ,গাইবান্ধায় ৬৭হাজার ৫শ’ হেক্টর ,কুড়িগ্রামে ৩৫হাজার ৫শ’২০ হেক্টর, লালমনিরহাটে২১হাজার ৫শ’ ৫৫ হেক্টর  ও নীলফামারীতে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান রোপন করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মোঃ মেসবাহুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত শীত ও ঠান্ডার কারণে কিছু জায়গায় বোরো ধানের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সংকট হওয়ায় মতো কোন পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। তিনি বলেন, জরিপে দেখা গেছে এ বছর রংপুর অঞ্চলে ইরি বোরো ধানের বীজচারার  লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৪ হাজার ১শ’ ৭৯ হেক্টর জমিতে। কিন্তু কৃষকরা বীজচারা রোপন করেছে ৩০হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও এখনও অনেক জেলায় পুরোদমে ইরি বোরো চাষাবাদ শুরু হয়নি।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ শাহ্ আলম জানান, ঘন কুয়াশার কারণে অনেক সময় ধানের চারা হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে মরে যায়। তবে শীতের মাঝামাঝি সময়ে ইরি বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করলে চারার কোন ক্ষতি হয় না। তবে ইরি বোরো ধানের আবাদে চারা সংকটে পরার কোন আশংকা নেই।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();