বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
নড়াইলে বিপন্ন পরিবেশ, হুমকিতে কৃষি জমি
ইটভাটার কালো ধোঁয়া
শরিফুল ইসলাম বাবলু, নড়াইল
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 3:52 PM
নড়াইলে বিপন্ন পরিবেশ, হুমকিতে কৃষি জমি
নড়াইলে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে ইটভাটা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৬০টি ইটভাটা রয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ৭৪টি। এর মধ্যে ৬০টিতে রয়েছে ব্যারেল চিমনি যা অবৈধ। এসব ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে পুড়ছে কাঠ। এতে পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে এবং শত শত হেক্টর কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়ছে। শুধু তাই নয় ইটভাটায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল)। প্রতি মৌসুমে অন্তত সাড়ে ৩০০ একর ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি গিলছে এসব ইটভাটা।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, ‘কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা হলে সেই জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। ৪-৫ বছর সেই জমি থেকে ফসল উৎপাদন অনেক কমে যায়। ফসলি জমির আশেপাশে ইটভাটা থাকলে কৃষকের ফসল উৎপাদন অনেক কমে যায়। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। যেসব ইটভাটার মালিকরা ফসলি জমির মাটি কেটে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার  করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং ফসলি জমির পাশে যেন ইটভাটার অনুমতি না দেওয়া হয় ব্যপারেও আমরা জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো।’
স্থানীয়রা জানায়, আকার ভেদে একটি ইটভাটা গড়ে তুলতে কমপক্ষে পাঁচ একর জমির প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো ইটভাটা তৈরি করতে ৩০-৩৫ একর জমিও প্রয়োজন হয়। এক যুগ আগে জেলায় হাতে গোনা ১৮-২০টি ভাটা ছিল।  কিন্তু এখন তা বেড়ে প্রায় চার গুণে পৌঁছেছে। আর এসব ইটভাটা তৈরি করতে অন্তত ৪০০ একর ফসলি জমি ব্যবহৃত হয়েছে বলে কৃষকদের দাবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাটার ম্যানেজার জানান, সাধারণত মধ্যম সারির একটি ভাটায় বছরে ৪০/৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। প্রতি আট হাজার ইটের জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় এক হাজার ঘনফুট মাটি। যে মাটির যোগান দেওয়া হয় কৃষি জমি থেকে। এজন্য প্রতিটি ভাটায় বছরে ৭/৮ একর জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহৃত হয়। সে হিসাবে ৭৪টি ভাটাতে প্রতি বছর অন্তত সাড়ে ৩০০ একর জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহৃত হয়।
তবে ভাটার মালিকরা বলছেন, সময়মতো কয়লা না পাওয়া এবং কয়লার মূল্য বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন ইট পোড়ানোর জন্য গড়ে প্রতিটা (একটি) ভাটায় ৩৫-৪০ মণ কাঠ পোড়াতে  হয়। সব মিলিয়ে জেলার ৭৪টি ইটভাটায় প্রতিদিন দুই হাজার ৫০০ মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
সদর উপজেলার সীবানন্দপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষেতের পাশে ইটভাটা স্থাপন করায় আগের তুলনায় এখন জমিতে উৎপাদন অনেক কমে গেছে। সরকার যদি ভাটাগুলো ফসলি জমির কাছ থেকে সরিয়ে না নেয় তাহলে আগামী কয়েক বছর পর হয়তো জমি থেকে আমরা কোনো ফসল পাবো না।’
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী কাজী হাফিজুর রহমান জানান, প্রতিটি ভাটায় অনবরত কাঠবোঝাই যানবাহন প্রবেশ করে। ভাটাগুলোতে মজুদ রয়েছে হাজার হাজার মণ কাঠ। কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। কৃষিজমি এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ভাটায় স্বল্প উচ্চতার টিনের তৈরি চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে ফসলসহ পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রতি বছরই প্রশাসনের লোকজন কিছু কিছু ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেও তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না।’ ইটাভাটার যেসব আইন রয়েছে সে আইন যথাযথ প্রয়োগ করে পরিবেশঘাতী এসব কর্মকা- বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেকক্টর (এনডিসি) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন জানান, নড়াইলে কিছু ইটভাটা মালিক কয়লা ব্যবহার না করে কাঠ পোড়াচ্ছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ভাটায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();