বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
নাব্য সংকটে খলিসাডাঙ্গা নদী এখন মরা খাল
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 3:33 PM, Update: 11.02.2018 3:40:23 PM
নাব্য সংকটে খলিসাডাঙ্গা নদী এখন মরা খাল
নাব্য সংকটে মরা খালে পরিণত হয়েছে পদ্মার শাখা হিসেবে উৎপত্তি  খলিসাডাঙ্গা নদী। কিন্তু কারখানায় বিষাক্ত বর্জ্যদ্রব্য ফেলায় নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও দখল-দূষণ আর পলি জমে ভরাট হওয়ায় এ নদী বর্তমানে বিলীন হওয়ার পথে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় ও কৃষি আবাদে স্থবিরতা নেমে আসার পাশাপাশি নদীতে পানি না থাকায় জেলেরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার লালপুর উপজেলায় পাইকপাড়া ইক্ষু কেন্দ্রের এক কিলোমিটার পশ্চিমে পদ্মার শাখা হিসেবে উৎপত্তি  খলিসাডাঙ্গা নদী। এই নদীটি বড়াইগ্রাম হয়ে চাটমোহরের চিকনাই নদীর সঙ্গে মিলেছে। অথচ একসময় এই নদীতে ছোট-বড় নৌকায় করে ছুটে চলতেন মাঝিমাল্লা ও সওদাগরেরা। তখন এই নদীতীরে গড়ে উঠেছিল জেলেপল্লীসহ অসংখ্য জনপদ। জেলেরা রাতদিন এখান থেকে মাছ ধরে আশপাশের বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত উজানে পানি টেনে নেওয়ায় কালক্রমে প্রমত্তা পদ্মা মরে গেছে। এদিকে পানি না থাকায় দীর্ঘদিন ড্রেজিং করা হয়নি। যেটুকু অস্তিত্ব ছিল বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে সেটুকুও ধ্বংস করতে চলেছে নর্থবেঙ্গল সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। এদিকে চিনিকলের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে নদীর তলদেশের প্রবাহমান পানিটুকুও বিষাক্ত করে ফেলা হচ্ছে।  
ফলে পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে খলিসাডাঙ্গা নদী। এরপরও সরেজমিন দেখা যায়, বিগত ৫০ বছর ড্রেজিং না করায় নদীটি দৈর্ঘ্য-েপ্রস্থ শীর্ণ হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও চিনিকলের বিষাক্ত বর্জ্যে নদীর পানি কালো রঙ ধারণ করেছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ ও জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। নদীতে মাছ না থাকায় দুই তীরে বসবাসকারী হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। তা ছাড়া পানি না থাকায় মাঝিরা জীবিকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েছেন বাপ-দাদার পেশা পরিবর্তনে। ফলে স্থানীয়রা নদীর তলদেশে চাষাবাদ করছেন।
উপজেলার ধানাইদহ এলাকার মৎস্যজীবী রতন কুমার, কুবের ও গোপাল বলেন, ছোট কাল থেইকে বাপ-দাদার সঙ্গে নদীত মাছ ধরিছি। কিন্তু এখন জল না থাকায় এমনিতেই মাছ পাওয়া যায় না। তার ওপরি চিনিকলের গাদ (বর্জ্য) ফেইলে পানি এত বিষাক্ত হয়ে গেছে। ফলে মাছ ও পোকামাকড় বাঁচে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ বলেন, খলিসাডাঙ্গা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে কৃষি কাজে কৃষকদের অতিরিক্ত সেচ খরচ গুনতে হচ্ছে। নগর ইউপি চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালু বলেন, এলাকার মানুষের স্বার্থে নদীটি খনন করার পাশাপাশি পানিতে বর্জ্য পদার্থ ফেলা বন্ধ করা দরকার। 
হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ও নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, চলনবিলের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা খলিসাডাঙ্গা নদীর সঙ্গে লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু খলিসাডাঙ্গা নদী মরে যাওয়ায় তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই দ্রুত নদীটি পুনঃখনন জরুরি হয়ে পড়েছে। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();