বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
ছয় বছরেও অজানা হত্যাকারীর নাম-পরিচয়
খুন করেনি কেউ সাগর-রুনিকে!
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : Saturday, 10 February, 2018 at 10:53 PM, Update: 11.02.2018 1:52:39 PM
খুন করেনি কেউ সাগর-রুনিকে!
বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। ২০১২ সালের এদিন রাতে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারওয়ার ওরফে সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। র্দীঘ ৬ বছরেও সাংবাদিক দম্পতির হত্যারহস্যের জট খুলতে পারেনি তদন্তের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বারবার তদন্ত নিয়ে আশার কথা বললেও এখনো অন্ধকারে এ হত্যারহস্য। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপপরিদর্শক। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু গত ৬ বছরেও পুলিশ মামলার তদন্তে কেন অগ্রগতির খবর দিতে পারেনি। অপরাধীদের চিহ্নিত বা আটকও করা যায়নি এই দীর্ঘ সময়ে। বিচারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে হতাশার পাহাড় জমে উঠেছে সাগর-রুনির পরিবার ও নিকটজনদের মনে। গত বছর রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বলেছিলেন, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছি। যদি কখনো বিচার সম্ভব হয় সেটি হবে অলৌকিকভাবে। কারণ, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রভাবশালী কেউ জড়িত রয়েছে, আর না হয় তদন্তকারী সংস্থার ব্যর্থতা রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সাগর-রুনিকে কেউ খুন করেনি।
এতদিনেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ধীরগতি, অভিযোগপত্র দিতে টালবাহানায় সরকার-প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়েই বারবার প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের অনেকে মনে করেন, খুনিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। কারণ, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে দোষীরা আইনের আওতায় আসে এই দৃষ্টান্ত নতুন নয়। অথচ অদৃশ্য কোনো কারণে সাগর-রুনি হত্যারহস্য চাপা দেওয়া হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখন পর্যন্ত উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। আর এ কারণেই মামলা নিষ্পত্তি করা হয়নি। তিনি বলেন, সাগর-রুনির মামলাটি বর্তমানে র‌্যাব দেখছে, আশা করি, খুব দ্রুতই রহস্য উদ্ঘাটন হবে।
হতাশ ও ক্ষুব্ধ স্বজনরা  
দীর্ঘ ছয় বছরে মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ সাগরের জন্মস্থান পাবনার বেড়া উপজেলার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের ছোট নওগাঁ গ্রামবাসী ও তার স্বজনরা। সবার প্রিয় সাগর ও তার স্ত্রী হত্যায় তাদের গ্রাম ও পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। সাগরের মামাতো ভাই আতাউর রহমান বলেন, এখনো মনে পড়ে ভাইকে। তাকে হারানোর কষ্ট ভুলতে পারছি না আমরা। তাকে এখন দেখতে না পেয়ে সবসময়ের জন্য মনটা আমার খারাপ থাকে। এত বিচার হয়, আমার ভাই ও তার স্ত্রী হত্যার বিচার হচ্ছে না কেন জানতে চাই। সাগরের ফুফু সুফিয়া বেগম বলেন, বেঁচে থাকতে সাগর যখন বাড়িতে এসে আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে তখন খুশিতে বুকটা ভরে যেত। কিন্তু ছয় বছর ধরে তার কোনো দেখা পাই না। তাকে হারিয়ে যে কি কষ্টে আমরা আছি তা বলে বোঝাতে পারব না। বেঁচে থাকতে এই হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন বলেন, খুবই ভালো ছেলে ছিল সাগর। সে যখন বাড়িতে আসত তখন গ্রামের মুরুব্বিদের খুব সম্মান করে কথা বলত। মনে কোনো অহঙ্কার ছিল না। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। তাকে হারানোর কষ্ট আমরা ভুলতে পারছি না। এখনো তার মুখটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
ডিআরইউর কর্মসূচি  
সাগর-রুনিকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার সমাবেশ করবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। তাদের দুই সদস্য হত্যার প্রতিবাদে আজ বেলা ১১টায় ডিআরইউ চত্বরে সমাবেশ করবে পেশাদার সাংবাদিকদের এই সংগঠনটি।
শনিবার ডিআরইউর পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রিয় দুই সহকর্মী সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। তবে নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ডিআরইউসহ গোটা সাংবাদিক সমাজ সোচ্চার রয়েছে। সমাবেশে সাগর-রুনি পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যম নেতারা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ডিআরইউ নেতারা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();