সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮
যশোর রোডের শতবর্ষী ২৩১২ গাছ রক্ষায় চাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ
খোলা কাগজ প্রতিবেদক
Published : Friday, 12 January, 2018 at 3:09 PM
যশোর রোডের শতবর্ষী ২৩১২ গাছ রক্ষায় চাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ
ঐতিহ্যবাহী ‘যশোর রোড’র গাছ কাটা নিয়ে যশোরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও জনপ্রতিনিধি ও আমলারা গাছ কাটতে একমত হয়েছেন। এদিকে শুধু যশোরবাসীই নন, রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন পেশার মানুষও এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তারা ঐতিহ্যবাহী এ স্থানের গাছগুলো যেন কাটা না হয়-সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে সাংবাদিক প্রভাষ আমিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমিও একটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছি। যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সড়কটির দুপাশে দুই হাজারেরও বেশি গাছ আছে। এর মধ্যে অনেক গাছ শতবর্ষীও। রাস্তার দুপাশে এই বৃক্ষরাজি ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। সীমান্তের ওপারে এই সড়কটি পরিচিত যশোর রোড নামে। সীমান্তের ওপারেও রাস্তা চওড়া হয়েছে। কিন্তু একটা গাছও কাটা হয়নি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও এই সড়কটির রয়েছে ঐতিহাসিক অবস্থান। লাখ লাখ শরণার্থী এই সড়ক ধরে ভারতে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। ফিরে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন তার ঐতিহাসিক কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। স্মৃতিবিজড়িত এই রাস্তাটি ৪ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সময়ের দাবিতে এটাই বাস্তবতা। মানুষ বেড়েছে, গাড়ি বেড়েছে; রাস্তাও তাই বাড়াতে হবে। কিন্তু আমার শঙ্কা হলো চার লেন করার জন্য রাস্তার দুপাশে থাকা ২ হাজার ৩১২টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে শতবর্ষী এই গাছগুলো কেটে ফেলা হবে একটি আত্মধ্বংসী উদ্যোগ। আমি এই গাছগুলো না কেটে রাস্তা চওড়া করার দাবি জানাচ্ছি। এটা কি সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব এবং খুব সহজে। এক পাশের গাছগুলোকে মাঝখানে রেখে রাস্তা চওড়া করা যায়। তাহলে দুপাশের গাছই বেঁচে যাবে। আর রাস্তার মাঝখানে শতবর্ষী গাছগুলো থাকলে সড়কটির যে ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা রূপ তাও অক্ষুণ্ন থাকবে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি চাই, ছোট-খাটো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিরক্ত করা না হোক। কিন্তু যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই গাছগুলো বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই। শেখ হাসিনাই এখানে শেষ ভরসা। আর ২ হাজার ৩১২টি গাছের জীবন কোনো ছোট ব্যাপার নয়। তাই আমি এই গাছগুলো বাঁচানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছি।’
আ. রব প্রধান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘অপরূপ সৌন্দর্য... মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গাছগুলো রক্ষা করুন।’ এস এ চৌধুরী লেখেন, ‘আমাদেরও আকুল আবেদন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৌন্দর্যবর্ধক শতবর্ষী গাছগুলা রক্ষা করা হউক, ঘর পুড়লে যেমন আলু খাওয়ার লোকের অভাব হয় না তেমনি গাছগুলো নিয়ে বাণিজ্য করার লোকের অভাব নেই, অনেকে খাপ মেরে বসে আছে গাছগুলো কাটার অপেক্ষায়।’ সাংবাদিক শাহনাজ পলি লিখেছেন, ‘আমাদের অতিপ্রিয় সবুজ ঘেরা সড়ক। রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।’ আমিন উল্লাহ লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই এই অক্সিজেন ফ্যাক্টরি বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করে কি লাভ মানুষের? মানুষই অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে না থাকলে।’ আরিফ নেওয়াজ ফরাজী বাদল লিখেছেন, ‘উন্নত বিশ্বে গাছ রেখেই সড়ক চওড়া করার প্রচুর নজির আছে...।’ মোস্তফা ইমরান সোহেল লিখেছেন, ‘এ দাবিতে ক্যাম্পেইন আর মানববন্ধন শুরু করতে হবে এখনই। নইলে হুট করে কাটা শুরু হয়ে যাবে।’ উল্লেখ্য, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের (যশোর রোড) ৩৮ কিলোমিটার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ হাজার ৩১২টি ছোট-বড় গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানা দ্বন্দ্বে গাছ কাটা ঝুলে রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গাছের প্রকৃত মালিক নির্ধারিত হবে। আর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৩২৮ কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই কাজ শুরু করতে আগ্রহী সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩২৮ কোটি টাকা ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে যশোর-বেনাপোল জাতীয় সড়কের (দড়াটানা-বেনাপোল পর্যন্ত) ৩৮.২ কিলোমিটার সড়ক যথাযথমানে প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

গাছের মৃত্যু পরোয়ানায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের (যশোর রোড) ৩৮ কিলোমিটার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ হাজার ৩৩২টি ছোট-বড় গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানা দ্বন্দ্বে গাছ কাটা ঝুলে রয়েছে।
জানা গেছে, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গাছের প্রকৃত মালিক নির্ধারিত হবে। আর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৩২৮ কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়ন চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই কাজ শুরু করতে আগ্রহী সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এদিকে, ঐতিহ্যবাহী ‘যশোর রোড’র এসব গাছ কাটা নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের আপত্তি রয়েছে। তারপরও উন্নয়নের স্বার্থে জনপ্রতিনিধি ও আমলারা গাছ কাটতে একমত হন বলে জানা গেছে।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩২৮ কোটি টাকা ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে যশোর-বেনাপোল জাতীয় সড়কের (দড়াটানা-বেনাপোল পর্যন্ত) ৩৮.২ কিলোমিটার সড়ক যথাযথমানে প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, মহাসড়কের প্রস্থ ৭.৩ মিটার থেকে বৃদ্ধি করে ১০.৩ মিটার করা হবে। একই সঙ্গে সড়কের উভয় পাশে এক মিটার করে মাটির জায়গা রাখা হবে। এতে সড়কের প্রস্থ দাঁড়াবে ১২.৩ মিটার। সভায় জানানো হয়, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে মহাসড়কের উভয় পাশের ২ হাজার ৩৩২টি গাছ কাটতে হবে।
জানা যায়, বর্তমানে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক একসময় ‘যশোর রোড’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৮৪০ সালে জমিদার কালী পোদ্দারের মা ছায়ায় ছায়ায় গঙ্গা স্নানে যাবেন; এ জন্য রাস্তার দুধারে তিনি বিদেশ থেকে অতি বর্ধনশীল রেইনট্রি বৃক্ষের চারা এনে রোপণ করেন। সেই বৃক্ষগুলোই যশোর-বেনাপোল সড়কে আজও ছায়া দিয়ে যাচ্ছে।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ৮০ কিলোমিটার যশোর রোডের ৩৮ কিলোমিটার পড়ে বাংলাদেশ অংশে। বাকি ৪২ কিলোমিটার পড়ে ভারতের অংশে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু শরণার্থী এই মহাসড়ক পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিখ্যাত কবি অ্যালেন গ্রিন্সবার্গের লেখা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতাও এই রোডকে ঘিরে। ঐতিহ্যের দিক থেকে মহাসড়কের গাছগুলোও ইতিহাসের সাক্ষী। এদিকে, গাছগুলো কেটে মহাসড়ক সম্প্রসারণ নিয়ে যশোরবাসীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। জাতীয় সংসদে একজন সদস্যও গাছগুলো রেখে সড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন।
সর্বশেষ গত ৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যশোর-বেনাপোল সড়ক যথাযথমানে নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের সুবিধার্থে রাস্তার দুপাশের গাছ অপসারণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনজন সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের উচ্চপদের কর্মকর্তারা সর্বসম্মতিক্রমে ২ হাজার ৩৩২টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল দাবি করেন, যশোর-খুলনা, যশোর-বেনাপোল ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের জমি যশোর জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে সড়কের যাবতীয় উন্নয়ন কাজ, বৃক্ষরোপণ এবং সংরক্ষণের দায়িত্ব জেলা পরিষদ পালন করে আসছে। জেলা পরিষদ কখনো ওই মহাসড়কের জমি কিংবা গাছ হস্তান্তর করেনি। ফলে সওজের মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই। রাস্তার পাশের গাছ কেটে মহাসড়ক সম্প্রাসরণ করতে হবে-এটা সময়ের দাবি। এ দাবিতে জেলা পরিষদও একমত। গাছ অপসারণ তথা গাছ কাটতে সওজ চিঠি দিলেই আমরা কাজ শুরু করে দেব। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্র জানায়, পরিবেশের ভারসাম্য বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ মহাসড়কের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী প্রাচীন গাছ না কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত থেকে আবার সরে আসা হয়। গত ৬ জানুয়ারি গাছ কাটার বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গাছগুলো সওজ বিভাগের। কিন্তু জিলা পরিষদও মালিকানা দাবি করছে। এ ব্যাপারে অচিরেই আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় গাছের মালিকানা নির্ধারণ হবে। গাছের মালিকানা যাদের হবে, তারা গাছ কেটে নেবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিরই কাজ শুরু করতে পারব।
এদিকে, গাছগুলো সংরক্ষণ করে রাস্তা প্রশস্তকরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। গত সোমবার পার্টির যশোর জেলা কমিটির এক সভায় এ দাবি জানান পার্টির জেলা সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদ। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যশোর-বেনাপোল রাস্তায় ২ হাজার ৩৩২টি গাছ কেটে ফোর লেন করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। যেখানে পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে দেশবাসী শঙ্কিত। যারা এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উৎসাহ দেখাচ্ছেন, তাদের ‘বিশেষ মতলব’ রয়েছে বলে মনে হয়। এ সিদ্ধান্ত পরিবেশবিরোধী শুধু নয়, গণবিরোধীও। তিনি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল করে গাছ রেখে ফোর লেন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, যশোর-বেনাপোল সড়ককে চার লেন করা করা হবে-এর থেকে আনন্দের সংবাদ হয় না। কিন্তু যখন ২ হাজার ৩৩২ গাছকে হত্যা করা হবে শুনি, তখন আনন্দের সংবাদ ফিকে হয়ে যায়। গাছ কাটার পক্ষে কত কু-যুক্তি দিচ্ছেন কতজনে। যারা গাছ হত্যার বিপক্ষে, তাদের উন্নয়নবিরোধী, ঐতিহ্যপ্রেমী ও প্রাচীনপন্থী বলা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বদলাতে হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();