সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮
রোকেয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্র রাজনীতি
বেরোবি প্রতিনিধি
Published : Friday, 12 January, 2018 at 2:38 PM, Update: 12.01.2018 3:31:39 PM
রোকেয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্র রাজনীতি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্যাম্পাসে ভালো অবস্থান থাকলেও গত দু’বছর থেকে ছাত্র সংগঠনগুলোর তেমন তৎপরতা নেই। দীর্ঘদিন থেকে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাড়া ক্যাম্পাসে অন্য কোন সংগঠনের কোন কর্মসূচি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫ বছরের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও জাসদ ছাত্রলীগ। শুরু থেকে সাংগঠনিক তৎপরতা থাকলেও এখন পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ছাত্রফ্রন্টের আরেক অংশ (মার্কসবাদী)।
সংগঠনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক নেতারা জানান, শুরুর দিকে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল। কেন্দ্রীয় সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করত সংগঠনগুলো। এদের মধ্যে কর্মী সমৃদ্ধ ছিল ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। শুরুর দিকে ছাত্রদলের বেশ দাপট থাকলেও ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে ছাত্রদল। গত বছর ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি হলেও কর্মী স্বল্পতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারছে না সংগঠনটি। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কোন অবস্থানও নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দ্বিতীয় কমিটি পর্যন্ত বেশ গোছালো ছিল ছাত্র ইউনিয়ন। সেসময় ক্যাম্পাসে এসেছিলেন সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি স্লোগান কন্যা খ্যাত লাকী আক্তার। এরপর ধীরে ধীরে এই সংগঠনের কর্মী সংখ্যা কমতে থাকে। ছাত্র ইউনিয়ন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে কোন সংগঠনের পক্ষে এককভাবে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পরে। এতে বাম সংগঠনগুলো একত্রে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ব্যানারে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এর মাঝে ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি দেয় জাসদ ছাত্রলীগ। তবে নেতৃত্ব পেয়েই ঝিমিয়ে পরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসে তাদের তেমন কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। এরপর দিন গড়ার সাথে সাথে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) ও জাসদ ছাত্রলীগ। তবে স্বল্প সংখ্যক কর্মী নিয়ে এখনও কোনমতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রফ্রন্টের একটি অংশ।
জানা যায়, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বেশ সক্রিয় ছিল ছাত্র ইউনিয়ন। এর কিছু দিন পর সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দ্বিতীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হলে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির দায়িত্ব পান মশিউর রহমান বিশ্বাস। তিনি সভাপতি হওয়ার পর ছাত্র ইউনিয়নের তেমন কোন সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা যায়নি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সেই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে বাংলা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আফরিনকে আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে ছাত্র ইউনিয়ন। তবে আহবায়ক কমিটি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তেমন তৎপর নয় বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের আহবায়ক আফরিন বলেন, বিগত বছর সংগঠনের তেমন কাজ ছিল না। তবে নতুন করে নেতাকর্মীরা কাজ করছে। ছাত্র ইউনিয়নের এমন ভঙ্গুর অবস্থার কারণ জানতে চাইলে সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদ্য সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান জানান, যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মী স্বল্পতার কারণে ছাত্র ইউনিয়নের এমন অবস্থা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে শুরুর দিকে সাংগঠনিকভাবে তৎপর থাকলেও ছাত্রফ্রন্টের একাংশের (মার্কসবাদী) কোন নেতাকর্মীকে আর দেখা যায় না। একই অবস্থা জাসদ ছাত্রলীগের। তবে এখনও হাতে গোনা কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রফ্রন্টের আরেক অংশের সভাপতি যুগেশ ত্রিপুরা।
বাম সংগঠনগুলোর ঝিমিয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে যুগেশ ত্রিপুরা জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ না থাকা, পড়ালেখায় সেমিস্টার পদ্ধতি ও সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের একচ্ছত্র আধিপাত্যের কারণে শিক্ষার্থীরা সহশিক্ষা মূলক কর্মকান্ড ও সৃজনশীলতার দিকে আসছে না। শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে বাম রাজনীতি থেকে বিমুখ করা হচ্ছে। এতে সংগঠনগুলোতে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। যা নেতৃত্বের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলেছে। ফলে বাম সংগঠনগুলোকে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে সাংগঠনিক কাজ করতে হচ্ছে।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();