সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮
সুনামগঞ্জে বিনার কার্যক্রম জানে না কৃষকরা
শহীদ নূর আহমদ, সুনামগঞ্জ
Published : Friday, 12 January, 2018 at 12:57 PM
সুনামগঞ্জে বিনার কার্যক্রম জানে না কৃষকরা
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র  নামে দুটি প্রতিষ্ঠান কৃষি নিয়ে কাজ করছে দীর্ঘদিন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে সুনামগঞ্জের বুড়িস্থলে বিনার একটি উপকেন্দ্র নির্মাণ ও কার্যক্রম শুরু করে। লক্ষ্য ছিল হাওরাঞ্চলের নানা জাতের বীজের নিয়ে গবেষণা, বীজ উৎপাদন ও প্রদর্শনী, সার ও কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে একটি কৃষিবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। কিন্তু হাওরাঞ্চলবাসী জানান তারা এখনো পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো উপকার বা সহযোগিতা পাননি। কৃষির উন্নয়নে হাওরাঞ্চলে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে সুনামগঞ্জের বুড়িস্থলে বিনা তার কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কার্যক্রম, বীজ উৎপাদন ও প্রদর্শনীর জন্য ৬.৫ একর জমি রয়েছে। কিন্তু এই জমির একটি বড় অংশ বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায়। সাত মাস পানির নিচে ডুবে থাকে। শুধু শুষ্ক মৌসুমে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবারই প্রথম ইউরিয়া সারের যৌক্তিক ব্যবহার ও সুনামগঞ্জের মাটিতে সালফার ও জিঙ্কের মাত্রা বেশি থাকায় পরীক্ষামূলকভাবে আগাম জাতের বোরো ধান বিনা-১৬ ও ১৭ চাষ শুরু করেছিল। কিন্তু প্রদর্শনী প্লটগুলো ডুবে যাওয়ায় সেই পরীক্ষা ভেস্তে গেছে। তবে বিনার সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্র সুফল পেতে আরও এক দুই বছর সময় লাগবে বলে জানা যায়।
একই সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে জনবল সংকট। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদটি রয়েছে শূন্য। দুজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদ অনুমোদিত রয়েছে। কিন্তু কর্মরত আছেন একজন। তাছাড়া, অনুমোদিত ফার্ম ম্যানেজার পদ-১, বৈজ্ঞানিক সহকারী কর্মকর্তা পদ-১ বৈজ্ঞানিক সহকারী পদ-২, হিসাবরক্ষক পদ-১ ও আনসারের ৬টি পদ অনুমোদিত থাকলেও তার সবগুলোই শূন্য রয়েছে। ১ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ১৩ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এখানে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় এখানে মৌলিক গবেষণা কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা যায়।
এদিকে ধানের জাত উদ্ভাবন, সার ও কীটনাশকের গবেষণা চলমান থাকলেও কৃষিবান্ধব এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে হাওরের সাধারণ চাষিদের কোনো ধারণা নেই।
সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের আব্দুল গফুর নামে এক চাষি জানান, বুড়িস্থলে একটা আছে দেখেছি। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠান কী কাজ করে আমার জানা নেই। গৌরারং ইউনিয়নের সুজন মিয়া জানান, শুনেছি ধানের জাত নিয়ে গবেষণার জন্য এ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু তার কোনো সেবা আমরা পাইনি।
হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও সংগঠনের সালেহীন চৌধুরী শুভ জানান, সুনামগঞ্জে বিনার উপযোগিতা খুব কম। গভীর পানির ধানের জাত নিয়ে গবেষণার জন্য একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান দরকার।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জাহেদুল হক জানান, হাওরাঞ্চলের জন্যও পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটটিও অনেক কাজ করতে পারে। হাওরাঞ্চলে আগাম জাতের ধান উদ্ভাবন, কৃষকদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণসহ কৃষির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষণার জন্য জনবল বাড়ানো দরকার। অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সুনামগঞ্জ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম  জানান, আমাদের জনবলের সংকট রয়েছে। স্বল্প লোকবল দিয়ে আমরা গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। হাওরাঞ্চলের উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন করতে গবেষণা চলানো হচ্ছে। দু-একবছরের মধ্যে একটি আগাম জাতের ধান উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();