সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৮
‘সিলেবাসে ধর্মীয় সংকীর্ণতা আছে’
অভ্র বসু
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 1:41 PM, Update: 11.01.2018 1:49:41 PM
‘সিলেবাসে ধর্মীয় সংকীর্ণতা আছে’অভ্র বসু বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। যুক্ত আছেন কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে। এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও তার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। কাজ করেছেন ভাষাতত্ত্ব নিয়ে। সম্প্রতি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ড. কাজল রশীদ শাহীন
কাজল : তাহলে এভাবে আমাদের সংকীর্ণ মনোভাবটা বেরিয়ে আসছে না? সাহিত্যের ইতিহাসটাকে এক ধরনের গলির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অভ্র : হচ্ছেই তো, নিশ্চয়ই হয়েছে। আমি দু’বাংলার সিলেবাস নিয়ে একসময় ঘাটাঘাটি করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, দুই বাংলার সিলেবাসেই একটা ধর্মীয় সংকীর্ণতা আছে। এদিকেও কিছু জিনিস খুব কম পড়া হয়, আরেকটু বেশি পড়া হওয়া উচিত। ওদিকেও কিছু জিনিস একেবারেই পড়া হয় না যেগুলো পড়া হওয়া উচিত।
 
কাজল : কিন্তু এই বিভাজনকে দিনে দিনে আরও স্থায়ী রূপ দেওয়া হচ্ছে। এপার-ওপারের সাহিত্যের গবেষকদের মধ্যে আদান প্রদান ঠিকই হচ্ছে কিন্তু এই মূল জায়গাটার আদান প্রদান হচ্ছে না। 
অভ্র : আমরা বিশ্বভারতীতে চেষ্টা করছি। আমি বলব না সিলেবাসে এসেছে। কিন্তু যারা পড়ান তারা হিস্টরিও গ্রাফিকসটা পড়াচ্ছে। কীভাবে ইতিহাস লেখা হচ্ছে। হিস্টরিওগ্রাফিটা সাহিত্যের ইতিহাস পড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বভারতীতে একটা বড় ভূমিকা নিচ্ছে। কীভাবে সাহিত্যের ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে মুসলমানরা আলাদা হয়ে গেলেন আর হিন্দুরা আলাদা হয়ে গেলেন। একটা সহজ উদাহরণ দিই। তুর্কিরা বাংলায় এলো, এ ব্যাপারে হিন্দু ঐতিহাসিকরা লিখবে তুর্কি আক্রমণ আর মুসলমান ঐতিহাসিকরা লিখবে তুর্কি বিজয়। 

কাজল : কিংবা আগমন।
অভ্র : না, ওইটা মধ্যপন্থা। এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, তারা আগমন করেছিল। দেখুন, ইতিহাস তো রাজনীতি নিরপেক্ষ নয়, ইতিহাসের একটা রাজনীতি আছে। আমি ক্লাসেও বলি, ১৭৫৭-তে সিরাজউদ্দৌলা, এরপর ৬৪, এই সময়টায় আমরা বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে বেইমান লোকটাকে চিনে নিয়েছি। তার নাম হচ্ছে মীরজাফর। কিন্তু একটু ভেবে দেখেন তো, মীরজাফরই কি সবচেয়ে বেইমান লোকটা? মীরজাফর নেহাৎ সিংহাসনে বসেছিল। তাকে ডুবিয়েছিল কারা? উমিচাঁদ, মুসলমান নয়। একের পর এক যদি নাম করা যায়... জগৎ শেঠ, এরা কেউ মুসলমান নয়। কিন্তু ওই বেচারা মীরজাফরকে বাংলার ইতিহাসে চিরকালের জন্য বেইমান আখ্যা দিয়ে এই উমিচাঁদ, জগৎ শেঠকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া হলো। ইতিহাসটাকে কিন্তু তৈরি করা হলো এইভাবে। কেননা এই ইতিহাসটা হিন্দুরা তৈরি করেছে। গোটা উনিশ শতকে ইংরেজদের সঙ্গে মিলে বাংলার ইতিহাস তৈরি করেছে হিন্দুরা। আমি মীরজাফরকে ডিফেন্ড করছি না। কিন্তু মীরজাফরই বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে কিংবা একমাত্র বেইমান লোক, এই কথাটার মধ্যে একটা রাজনীতি আছে। যে রাজনীতির পেছনে কিন্তু হিন্দুরা আছে। ইতিহাস আমাকে আপনাকে ওই কথাটা বলে, কিন্তু ইতিহাসটা কি তাই?
মীরজাফরকে কে ক্ষমতায় বসালো। তাকে না বসিয়ে হিন্দুগুলোও তো বসতে পারতো। কিন্তু তারা জানে যে, এটা পাওয়ার উইদাউট রেসপনসিবিলিটি। আসলে ইংরেজরাই সব, তাকে শুধু সামনে রাখা হয়েছে। তাকে ক্রীড়নক করে রাখা হলো। এখন মীরজাফর লোকটা হয়তো বোকা ছিল, লোভী ছিল। দেশ ভাগ যদি ধর্মের ভিত্তিতে হয় তাহলে এরকম ইতিহাসগুলো স্ট্রং হয়, অন্য কোনোভাবে হলে ইতিহাসটা হয়তো এমন হতো না।
 
কাজল : ওই সময় তো মুসলমানরা শিক্ষিত ছিল না, হিন্দুরাও অতটা ছিল না। কিন্তু পরবর্তীকালেও সাহিত্যের ইতিহাসের ক্ষেত্রে রাজনীতিটা থেমে থাকেনি। অসিত কুমারের যে বইটা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, এই বইয়ে তিতুমীরকে, যাকে আমাদের এখানে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়, ডাকাত হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। ওই বইটা আবার আমাদের এখানেও পাঠ্য। এই দুঃখজনক জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের অগ্রসর মানুষদের যে ভূমিকা থাকা দরকার, সেই ভূমিকাটা কি পালিত হচ্ছে?
অভ্র : নতুন করে ইতিহাস লেখা দরকার। এবং এটা লিখতে হবে উভয় পক্ষের একটা উদার মন নিয়ে। ইতিহাস নিয়ে আমি আপনাকে যে কথাগুলো বললাম, এগুলো নিয়ে আলোচনা পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে। কিন্তু দুর্বলভাবে হচ্ছে। ক্ষীণভাবে হচ্ছে। মার্কিস্টরা করেছে কেননা তাদের কোনো রিলিজিওয়াস বায়াসড ছিল না। আপনাদের দেশে মার্কিস্টদের দশা আমি জানি না। কিন্তু আমাদের দেশে মার্কিস্টরা একটা দীর্ঘ সময়ে পলিটিক্যালি যতখানি সাকসেসফুল হয়েছিল, থিওরিটিক্যালি ততখানি হয়নি। একটা মার্কিস্ট স্কুল নিশ্চয়ই আছে কিন্তু সেই স্কুলটি সর্বজনগ্রাজ্য হয়নি। 
ফলে আমাদের একটা কাউন্টার ইতিহাস লিখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইতিহাস লেখা কখনো শেষ হয় না। ইতিহাস যুগে যুগে নতুন করে লিখতে হয়। ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ বদলায়। নতুন নতুন তথ্য আসে। তথ্য মানে অমুক সালে অমুকটা ঘটেছিল, এমনটা নয়, আর পাঁচটা জিনিসকে পাশে রেখে নতুন করে দেখাটাও একটা তথ্য। যেটাকে আমরা এভিডেন্স না বলে সারকাম্সটেনশিয়াল এভিডেন্স বলতে পারি।
 
কাজল : আপনি মাইকেল নিয়ে কাজ করেছেন। আমাদের এখানে একটা বই আছে, গোলাম মুরশিদের ‘আশার ছলনে ভুলি’। আপনার গবেষণায় নতুন কী উঠে এসেছে? 
অভ্র : প্রথমে বলে নিই, আশার ছলনে ভুলি এক অসাধারণ বই। আমার গবেষণায় যে নতুন কিছু উঠে এসেছে, ঠিক এমনটা নয়। আমি মেঘনাদবধ কাব্যকে রসতত্ত্বের জায়গা থেকে দেখবার চেষ্টা করেছি। আমরা তো জানি যে, এই মহাকাব্য নিয়ে একটা বিতর্ক আছে যে, এটা বীররসের কাব্য নাকি করুণ রসের কাব্য, এটাও জানি যে, ভারটা করুণ রসের দিকেই। আমিও সেই মতই স্বীকার করেছি তবে রসতত্ত্বকে ব্যবহার করে। রসতত্ত্বের যে ভাগ আছে (বিভাব, অনুভাব) সেগুলোকে ব্যবহার করে আমি দেখবার চেষ্টা করেছি যে, মেঘনাদবধ কাব্যে এটা কতখানি আছে। 
আরেকটা ব্যাপার নিয়ে আমি কাজ করেছি। সেটা হলো, মধুসূদনের ব্যাপারে আমরা সবাই জানি যে, মধুসূদন খুব সাহেব হয়ে গেলেন। কিন্তু মধুসূদনের যে একটা সিরিয়াস বাঙালিয়ানার দিক ছিল, মধুসূদন যে আসলে সাহেব হতে পারেননি এবং উনি শেষ পর্যন্ত বাঙালিই ছিলেনÑ এটা আমি মধুসূদনের জীবনের নানা তথ্য দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছি। আরও কিছু ব্যাপার আমি করেছি, যেমন ধরেন, বিদ্যাসাগরের সঙ্গে মধুসূদনের সস্পর্ক নিয়ে আমার একটা আলোচনা আছে। মধুসূদনের ভাষা সম্পর্কে আরেকটা আলোচনা আছে। কিছু কিছু কথা বলবার চেষ্টা করেছি যেটা হয়তো আগে কেউ বলেননি।  

কাজল : যেমন?
অভ্র : আমরা অনেক সময় বলি, মেঘনাদবধ কাব্যে, ‘কী সুন্দর মালাদি পরিয়াছ গলে প্রচেতহ’, এরা ব্যাজস্তুতি (প্রশংসার ছলে নিন্দা), নিশ্চয়ই ব্যাজস্তুতি। আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি যে, প্রচেতহ শব্দটা, প্রচেতহ মানে সমুদ্র কিন্তু আক্ষরিক অর্থে দেখতে গেলে যার চেতন প্রকৃষ্ট। এইখানে যে ব্যঙ্গটা করা হচ্ছে, প্রশস্তির ছলে যে নিন্দাটা করা হয়েছে, এই প্রচেতহ শব্দটার মধ্যেই একটা নিন্দা আছে। তোমার আসলে প্রকৃষ্ট চেতন নয়। 
আমরা তো প্রচেতহ শব্দটাকে সমুদ্র ধরে নিয়ে আলোচনাটা করি। কিন্তু আমার বক্তব্য হলো, ওই প্রচেতহ শব্দটা ইটসেল্ফ একটা ব্যাজস্তুতি। খুব বড় লেবেলের কিছু না তবে এরকম খুটিনাটি কিছু আলোচনা করবার চেষ্টা করেছি। 

কাজল : আপনি বাংলা স্ল্যাং নিয়ে গবেষণা করেছেন। এমন বিষয় নিয়ে আগ্রহী হলেন কেন? 
অভ্র : ছাত্রাবস্থায় আমরা সবাই স্ল্যাং নিয়ে আগ্রহী, আড্ডার জন্য। ওটার একটা বয়স থাকে। যখন স্কুল পেরিয়ে আমরা স্ল্যাং ব্যবহার করতে শুরু করি তখনই আমি স্ল্যাং নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম। কিছুই নয়, নতুন যে শব্দগুলো পাচ্ছি তা নিয়ে আলোচনা। কিন্তু তারপর আমি সেগুলো গুছিয়ে রাখতে শুরু করি। সেই অর্থে স্ল্যাং নিয়ে আমার গবেষণা শুরু হয়ে গেছে অনার্স প্রথম বর্ষ থেকে। গবেষণা না বললেও সংগ্রহ বলা চলে। তখনই ওটা আমার আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 
আমার কোনো বিষয়েই কোনো ট্যাবু নেই। আমি নিজেকে যথেষ্ট মুক্তমনস্ক বলে মনে করি। তাই স্ল্যাং নিয়ে যে ট্যাবু এটা কোথাও আমার কাজ করেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা একটা ক্ষেত্র যেটা নিয়ে বাংলায় কাজ হয়নি। যাকে আমরা ইংরেজিতে বলতে পারি, একদম ভার্জিন ফিল্ড। স্ল্যাং আসলে শুধু এটা নয় যে, আমি বাজে কথা বলছি, স্ল্যাং আসলে একটা জাতির মনোস্তত্ত্ব। 
আমি কিন্তু কোনো ঐতিহাসিক কাজ করিনি। চর্যাপদে কী ছিল, কী এখন নেই, এমন কোনো গবেষণা আমি করিনি। আমার আগ্রহের জায়গা নাগরিক মানুষ। তারা কী শব্দ ব্যবহার করত, কেন করত? এবং আমি এটা আপডেট করারও চেষ্টা করছি না। আমার বই বেরিয়েছে ২০০৫ সালে। আমি কিন্তু মনে করিনি যে, ২০১৭ সালে কী শব্দ ব্যবহার হতে পারে সেটা ঢোকানো দরকার। কেননা আমি এটা মনে করি যে, ওইটা ওই সময়কার ডকুমেন্ট। ২০১৭ সালের ডকুমেন্টটা আলাদা কেননা এর মধ্যে ইন্টারনেট ঢুকে গেছে, এসএমএস ঢুকে গেছে। পুরো ভাষার চরিত্র বদলে গেছে। 

কাজল : একটা ওয়ার্ডকে আমরা কীসের ভিত্তিতে স্ল্যাং বলি?
অভ্র : এটা অনেক কঠিন প্রশ্ন। এই কারণে যে, এটা ভীষণ আপেক্ষিক একটা প্রশ্ন। কিছু শব্দ আছে যেটা নিয়ে কোনো তর্ক নেই। একটা উদাহরণ দিই। আমার এক পিসি আছেন, তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ছিলেন। তিনি একজন ডাক্তারের কাছে যান এজন্য যে, তার আথ্রাইটিস আছে। এই ডাক্তার তাকে নিয়মিতই দেখেন, কিন্তু সর্বশেষ অনেকদিন হলো যাননি। ডাক্তার বললেন, আপনি এতদিন আসেননি, আমি তো ভাবলাম কেটে পড়লেন। এটা শুনে আমার পিসি আর কোনো দিন ওই ডাক্তারের কাছে যাননি। কেটে পড়া শব্দটা তাকে এতটাই ধাক্কা দিয়েছিল। 

কাজল : আমাদের এখানে কেটে পড়া মানে সরে পড়া...
অভ্র : হ্যাঁ, তাই তো। এটা স্ল্যাং বলে আমরা মনেই করি না। কিন্তু উনি মনে করেছেন। অন্য কোনো মিনিং খুঁজেছেন, ব্যাপারটা এমনও নয়। তার কাছে মনে হয়েছে, শব্দটা যথেষ্ট শালীন নয়। এই জায়গাটা থাকবেই। আমি যেটাকে গুরুত্ব দিয়েছি তা হলো, যে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে কোনো না কোনো স্তরে আমার নিজের মনের মধ্যে একটা সেন্সরশিপ কাজ করে। যে শব্দটা আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ব্যবহার করবো না, যে শব্দটা আমি ক্লাসে ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবহার করবো না, হয়তো ক্লাসের বাইরে ব্যবহার করতে পারি, আমার বিবেচনায় ওই শব্দটিই স্ল্যাং। অর্থাৎ কোনো না কোনোভাবে কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে যে শব্দটির ব্যাপারে আমি সেন্সরশিপ করছি সেটাই স্ল্যাং। এর বাইরে কোনটা স্ল্যাং, এ বিষয়ে অনেক তর্ক আছে। 

কাজল : এটার কি আভিধানিক কোনো সংজ্ঞা আছে বা শনাক্তকরণের বিশেষ কোনো চিহ্ন?
অভ্র : একজন খুব বিখ্যাত স্ল্যাং বিশেষজ্ঞ আছেন, তার নাম হলো জোনাথন গ্রিন। তিনি আমেরিকান স্ল্যাং নিয়ে নানা রকম কাজ করেছেন। তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। আমি তাকে এই প্রশ্নটা করেছিলাম যে, স্ল্যাং আমি কাকে বলবো? গ্রিন আমাকে বলেছিলেন, যেটা তোমার মনে হবে স্ল্যাং সেটাই স্ল্যাং। এর কোনো এক্সক্লুসিভ সংজ্ঞা হতে পারে না। 

কাজল : ইংরেজিতে যেমন ডিগ্রি বিভাজন আছে যেমন, কম্পারেটিভ, সুপারলেটিভ। স্ল্যাং-এরও এমন কোনো বিভাজন আছে?
অভ্র : ডিগ্রি বিভাজনের চেয়ে জরুরি হলো, কিছু স্ল্যাং আছে যেগুলো খুব নিরীহ স্ল্যাং। আবার কিছু স্ল্যাং আছে যেগুলো ভালগার। যেগুলো একদম তীব্র গালাগালি আমরা বাংলায় যাকে চার অক্ষর, দু’অক্ষর এ সব বলি, সেগুলো ভালগারের কোঠায় পড়বে। কিন্তু ধরা যাক, কেটে পড়া। এটা স্ল্যাং হলে তা হবে নিরীহ স্ল্যাং। আমি জানি না, এই বাংলায় চলে কিনা, ডপ মারা। কলকাতায় প্রায় সবাই বলে। এটা হলো নিরীহ স্ল্যাং। তার আগে ছিল গুলমারা। 
স্ল্যাং-এর একটা চরিত্র হলো এটা কাউকে আঘাত করবে, ধাক্কা দেবে। এখন গুলমারা শব্দটা ব্যবহার হতে হতে এমন হয়ে গেছে যে, এটা আর কাউকে ধাক্কা দিতে পারছে না। ফলে ওটার একটা অল্টারনেটিভ আমাদের প্রয়োজন হলো। তখন শুরু হলো, ডপ মারা। নিরীহ স্ল্যাং এর একটা ট্যান্ডেন্সি থাকে, তা হলো, এটা একসময় মান্য ভাষার মধ্যে ঢুকে যাবে যা ভালগারের ক্ষেত্রে ঘটবে না। 

কাজল : সমাজ-রাজনীতি তো সাহিত্যের বাইরের কিছু নয়। তাই একটু অন্যরকম প্রশ্ন করছি। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের রাজনীতিকে কীভাবে দেখছেন? তৃণমূল আপনাদের শিক্ষায় কিংবা সমাজে কোনো চেতনাবিস্তারী কিংবা আশাবাদী কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে বলে আপনার মনে হচ্ছে?
অভ্র : আমার মনে হচ্ছে না এখন অব্ধি। এখন পর্যন্ত তৃণমূলের রাজনৈতিক যে কার্যক্রম তাতে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ আমি দেখতে পাচ্ছি না। তবে এটা ঠিক যে, তৃণমূল প্রাইমারি লেবেল থেকে স্কুল লেবেল পর্যন্ত সিলেবাসের পরিবর্তন করেছে। সেই পরিবর্তনটাকে আমি খুব খারাপ বলবো না। অনেক জিনিস তারা নিয়ে এসছে যেখানে ছাত্রদের জন্য আকর্ষণ আছে। একাদশ-দ্বাদশে তারা একটা বিষয় যোগ করেছে, সেটা হলো, বাংলার ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস মানে একদম গোড়া থেকে বাংলার ইতিহাস নয়। এই মুহূর্তের বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস এনেছে। যেমন, বাংলা সিনেমা, বাংলা গান, বাংলা নাটক, বাংলা চিত্রকলা। এসব তারা এনেছে। এখন মুশকিল হলো, এগুলো পড়াবে কে? নিশ্চয়ই বাংলার শিক্ষকরা। এখন সব বাংলার শিক্ষকরা বাংলা গান জানে না। বাংলা চিত্রকলা জানে না। ফলে তাদের পক্ষে এটা পড়ানোটা একটা মুশকিলের ব্যাপার। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। যে ছেলে জীবনে ছবিই দেখেনি তাকে যদি এখন যামিনী রায় বোঝানো হয়, নন্দলাল বসু বোঝানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াবে? এই পরিবর্তনের বিষয়টা ভালো কিন্তু তার জন্য তো একটা ওরিয়েন্টেশন লাগে। সেটার যে খুব ব্যবস্থা হয়েছে তা কিন্তু নয়। 

কাজল : তাহলে মমতা যে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলেন, এখানে ম্যাজিকটা কী ছিল? 
অভ্র : অপজিশন নেই। মমতার ব্যক্তিগত একটা ক্যারিশমা আছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বাম ফ্রন্ট মোটামুটিভাবে শেষ। বাম ফ্রন্টকে আবার ফিরে আসতে হলে অনেকভাবে তাদের নিজেদেরকে রিফর্ম করতে হবে। কংগ্রেস তো বহুদিন হলো শেষ। 

কাজল : পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে বাংলা রাখা হলো, এটাকে কীভাবে দেখেন। 
অভ্র : আপত্তির জায়গাটা ছিল পশ্চিম দিয়ে। এটা ঠিক যে পূর্ব নেই তাহলে পশ্চিম কেন?।

কাজল : আপনাকে ধন্যবাদ।
অভ্র : আপনাকেও ধন্যবাদ। খোলা কাগজের পাঠকদের শুভেচ্ছা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();