সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
সড়কের অভাবে নৌকায় যাতায়াত
পিরোজপুর প্রতিনিধি
Published : Wednesday, 13 September, 2017 at 11:29 AM
সড়কের অভাবে নৌকায় যাতায়াত
বাড়ির পাশেই খাল। সেখানেই বেঁধে রাখা আছে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা। প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেরাই নৌকা চালিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মনোহরপুর এলাকার শিশুরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জোয়ার-ভাটায় নৌকা উল্টে দুর্ঘটনার আশঙ্কা উপেক্ষা করেও থেমে নেই এসব শিশু। বিদ্যালয়ের আশপাশে নেই খাবারের  দোকান। ক্ষুধা লাগলে পানি খেয়েই তা নিবারণ করতে হয়। যুগ যুগ ধরে এভাবেই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে ওই এলাকার শিশুরা। মাত্র ছয় কিলোমিটার সড়কের অভাবেই এতো ভোগান্তি কোমলমতি শিশুদের। সড়কটি নির্মাণ হলে এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নের গাওখালী বাজার থেকে উত্তর দিকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি পিরোজপুর ভৌগোলিক সীমারেখার শেষ প্রান্তে। এর আশপাশে রয়েছে আরো ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও অনেকটা নাজুক।
সড়কের অভাবে নৌকায় যাতায়াত
দুই একটি প্রতিষ্ঠানের কিছুটা উন্নতি হলেও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে বিল ডুমরিয়া, বাঁশপাড়া মনোহরপুর, সোনাপুর ও ত্রিগ্রাম প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছোট ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুগের পর যুগ বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছে শিশুরা। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত মনোহরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সরকারের উচ্চপদে চাকরি করছেন এখানকার অনেকেই। অনেকে নিয়েছেন অবসর। অনেকে মারাও গেছেন। কিন্তু পরির্বতন হয়নি মনোহরপুরসহ বিল অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাথায়াত ব্যবস্থা।
মনোহরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীরণ রায় জানান, বছরের ১২ মাসই শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। কারণ তখন খাল-বিল থাকে পানিতে ভরা। আর শীতকালে খাল-বিল শুকিয়ে যায়।  তখন কোনো বাহনই চলে না। এ সময় জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে  ক্লাস নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরাসহ শিক্ষকদের এক সেট জামা কাপড় বিদ্যালয়ে রেখে দিতে হয়। মাত্র ছয় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলে এ দুর্ভোগ আর থাকবে না।
সড়কের অভাবে নৌকায় যাতায়াত
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি বাবুল আকন জানান, জনপ্রতিনিধিরা সব সময় আশ্বাস দিয়ে আসছেন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য সড়ক ও ভবন নির্মাণ করে দেবেন। মনোহরপুর থেকে পদ্মাডুবি পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলেই শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। থাকবে না আর জীবনের ঝুঁকি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম শেখ বলেন: ‘‘ছোট ছোট শিশুরা নিজেরাই নৌকা চালিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করে। বিষয়টি শুনে আমি পরিদর্শনে গিয়েছি। বিদ্যালয়সহ এলাকার বিরাজমান সমস্যা সমাধানের জন্য শিগগিরই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।’’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();