বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
অতিবৃষ্টিতে চা উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা
তমাল ফেরদৌস, মৌলভীবাজার
Published : Wednesday, 13 September, 2017 at 11:23 AM
অতিবৃষ্টিতে চা উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা
চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও আকাশ মেঘলা থাকায় অপর্যাপ্ত রোদ, চা গাছের গোড়ার মাটি সরে যাওয়া, পাতায় পোকার আক্রমণ ইত্যাদি কারণে গতবারের চেয়ে চা উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মৌলভীবাজারের ৯১টি বাগান ও চা অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এদিকে গত বছরের রেকর্ড সংখ্যক ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা পাতার উৎপাদন এবার কমে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হয়তো পূরণ হবে না। তবে আগামী কয়েক মাস যদি প্রয়োজনীয় ও নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং প্রয়োজনীয় রোদ পাওয়া যায় তাহলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাগান কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, গত দুই বছরের চেয়ে চলতি বছর বৃষ্টিপাত দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে চা গাছ জল শোষণ করতে পারেনি এবং গাছের গোড়া থেকে মাটিও সরে গেছে। এ ছাড়াও আকাশ মেঘলা থাকায় প্রয়োজনীয় রোদও পায়নি চা গাছ। ফলে চা গাছের পাতায় বিভিন্ন প্রকার পোকার আক্রমণ থাকায় স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
অতিবৃষ্টিতে চা উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা
২০১৬ অর্থবছরে দেশের ১৬৯টি চা বাগানে রেকর্ড পরিমাণ ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল সমান সংখ্যক বাগানে ৬৭ মিলিয়ন কেজি। অথচ ২০১৬ সালে ৮৫ মিলিয়ন কেজি উৎপাদন হলেও টার্গেট ছিল ১১০ মিলিয়ন কেজি। কারণ ১১০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন সম্ভব হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে যা রপ্তানি করা যেতো সেটা টাকার অঙ্কে ২ হাজার কোটি টাকা হতো। আর সরকার ও বাগান মালিক এবং শ্রমিকরা লাভবান হতেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আকাশ মেঘলা থাকায় অপর্যাপ্ত রোদ, চা গাছের গোড়ার মাটি সরে যাওয়া, পাতায় পোকার আক্রমণ ইত্যাদি কারণে গতবারের চেয়ে চা উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মৌলভীবাজারের ৯১টি বাগান ও চা অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী মো. আনিছুর রহমান জানান, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত মোট ২৮৩৩ মিলিমিটার (১১১.৫৫ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২০১৬ সালে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৮ ইঞ্চি এবং ২০১৫ সালে ৩৬ ইঞ্চি। এই বৃষ্টিপাত অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শুধুমাত্র জুন মাসে ৯২৫ মিলিমিটার ও জুলাই মাসে ২৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জলবায়ুও পরিবর্তনের ফলে হয়েছে এবং চায়ের চরম ক্ষতি করেছে বলে জানা যায়।
অতিবৃষ্টিতে চা উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা
হামিদিয়া চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার আমাদের টার্গেট ছিল গতবারের চেয়ে বেশি উৎপাদন করবো। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট একাধিক সমস্যার কারণে এবার চা উৎপাদন অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান (সিলেট) গোলাম মো. শিবলী জানান, চা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টিপাত ও রোদ প্রয়োজন। এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় চা গাছের গোড়ার মাটি সরে যাওয়াসহ পাতার পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে গত বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যদি প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও রোদ পায় বাগানগুলো তাহলে গত বছরের সমান উৎপাদন না হলেও আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব।

 
 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();