শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
উন্নয়ন কাজের বিল হয়, জানেন না কাউন্সিলর!
Published : Wednesday, 13 September, 2017 at 11:16 AM
উন্নয়ন কাজের বিল হয়, জানেন না কাউন্সিলর!
তোফাজ্জল হোসেন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীন লালবাগের একটি সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে। কিন্তু কাজটি খুবই নিম্নমানের হচ্ছে। স্থানীয় ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন। রাস্তার উন্নয়ন কাজ নিম্নমানের হচ্ছে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিষয়টি অবহিত করেন। অবহিত করে কাজ ভালোভাবে করার কথা বলেন। তা না হলে কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি নির্দেশনা আসবে। এরপর দীর্ঘদিন কাজটি বন্ধ ছিল। কিন্তু ঠিকাদার আর কাজ করেননি। এলাকার মানুষের ভোগান্তি দেখে কাউন্সিলর অবশেষে নিজেই ওই ঠিকাদারকে কাজটি শেষ করার অনুরোধ জানান।
এভাবে নিজের অক্ষমতার কথা জানিয়ে কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন বলেন: “আমার আসলে কোনো ক্ষমতা নেই। আমি যেটুকু করেছি সেটা দায়িত্ববোধ থেকে। এলাকার মানুষের জনপ্রতিনিধি হিসেবে। কিন্তু আমার যদি কার্যকর ক্ষমতা থাকতো তাহলে কিন্তু ওই ঠিকাদার এটি করতে পারতেন না।”
আগে ঠিকাদারের বিল তুলতে হলে স্থানীয় কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নিতে হতো। এ কারণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতো। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। ফলে কাজ বুঝে নিতে চাপ দেয়ার সুযোগও থাকছে না।
জানা গেছে, ২০০৬ সাল পর্যন্ত এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের অনুমতি লাগতো। কাজের বিল তুলতে হলেও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর লাগতো। ফলে খারাপ কাজ করার সুযোগ ছিল না। কারণ কাজ খারাপ হলে কাউন্সিলরা বিলে স্বাক্ষর করতো না। ফলে তারা টাকা তুলতে পারতো না। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই এই সিস্টেমটা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ কারা করছে, কি রকম করছে সে বিষয়ে দেখভাল করতে পারছেন না কাউন্সিলরা। অথচ জনপ্রতিনিধি হিসেবে খারাপ কাজের বদনাম তাদের ঘাড়েই চাপছে।
এ বিষয়ে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীর সমীর বলেন, আগে প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের স্বাক্ষরে ঠিকাদাররা কাজের বিল তুলতো। ফলে কাজের ভালমন্দ যাচাইয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। এখন কারা এলাকায় কাজ করছে সেটিও আমরা জানি না। ফলে কাজের মান যাচাইয়েরও সুযোগ নেই।
তিনি বলেন: “এখন কাজ হয় প্যাকেজে। কয়েকটি ওয়ার্ড একত্রিত করে একটি প্যাকেজের মাধ্যমে ওই ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়ন কাজ হয়। এটি নির্ধারণ করে সিটি করপোরেশন। আমার ওয়ার্ডে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার কাজ চলছে।  এই কাজ  কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে স্থানীয় কাউন্বিলর জানান দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ কারণে কাজের গুণগতমান খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ততা দরকার। তা না হলে নিবিড় কাজ হয় না। কাজের মান ভালো হয় না। কাজের মান ভালো করার জন্য কাউন্সিলরদের কার্যকর ক্ষমতা থাকা উচিত যেন ঠিকাদাররা যেনতেন কাজ করতে না পারে।
২৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বলেন, ‘কাউন্সিলরদের ক্ষমতা বাড়ানো উচিত। কারণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের অনেক দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা থাকে। ২০০১ সালে একজন কাউন্সিলরের যে ক্ষমতা ছিল সেটি কিন্তু এখন নেই। এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মনিটরিং এবং মানুষের সেবা করার সুযোগ আরো বাড়ানোর জন্য কাউন্সিলরদের ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
৩২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিল্লাল শাহ বলেন: “কাউন্সিলরদের হাতে উন্নয়নমূলক কাজ করার ক্ষেত্রে কার্যকর ক্ষমতা থাকলে মনমত কাজ করা যেতো। আমি চেষ্টা করছি এলাকাটিকে সাজাতে। ওয়াসার কারণে অনেক সমস্যা হয়। এটি অপদার্থ। এর কোনো কাজই হয় না।”
৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হাসান পিলু বলেন: “বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই দুঃখের। কারণ  স্থানীয় জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এলাকায় কাজ হয় কিন্তু আমরা জানি না। আগে আলোচনা করে এলাকার কাজের এস্টিমেট করা হতো। এখন আর সেটি নেই। তারপরও আমি নিজ উদ্যোগে আমার এলাকার কাজ মনিটরিং করছি।”
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান খোলা কাগজকে বলেন, ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করলে স্থানীয় কাউন্সিললরা অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি কাজের বিল ছাড় পেতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা হবে।
তিনি বলেন: “আমার জানা মতে  ঢাকা দক্ষিণে চলমান সব উন্নয়ন কাজের সমস্যা হচ্ছে না। কাজের গুণগতভাবে কাজ খারাপ হলে স্থানীয় কাউন্সিলরা অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী ফরাজী সাহাবুদ্দিন আহমদে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালী দেখলেই স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলীরা কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করে উন্নয়ন কাজ ভালোভাবে করে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালান। তার পরেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: আহসান হাবীব
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন এ্যাপার্টমেন্ট নং ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by i2soft
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();